লাল চিনার পাতা শুধু উপন্যাস না

Feature Image

লাল চিনার পাতা শুধু উপন্যাস না। এটি একটি এইতিহাসিক দলিল। যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা দরকার।
আমি আমার এই উপন্যাসে ইতিহাসের এক অন্ধকারতম অধ্যায়কে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র । এর জন্য কিছু ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার , আত্মজীবনী , সংবাদপত্র সহ বেশ কিছু বইয়ের সহায়তা আমি নিয়েছি । কাশ্মীর সব সময় আমাকে গভীরভাবে আকর্ষণ করে এসেছে । কাশ্মীরের সৌন্দর্যে যেমন আমাকে আনন্দ দিয়েছে, তেমনি এর ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি আমাকে কাঁদিয়েছে ।

 

কাশ্মীরের সম্পর্কে বহু মানুষের মতামত জানার পর আমি কাশ্মীর সমস্যার মূল খোঁজার জন্য নিজে পড়াশুনা আরম্ভ করলাম, ১৯৯০ এর ১৯ এ জানুয়ারি কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কাশ্মীর উপত্যকার ছেড়ে এক রাতের মধ্যে পালিয়ে আসতে হয়েছিল । কেন তাঁরা এই ভাবে চলে এসেছিলেন । কি হয়েছিল সে দিন । এসব প্রশ্নের উত্তর বাংলায় লেখা কোন বইতে সে ভাবে নেই । তাই সমগ্র বাঙ্গালী জাতি এই প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে সেই অন্ধকারেই থেকে গেছে । এই উপন্যাসটার মধ্যে দিয়ে আমি সেই প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করেছি ।বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত পত্রিকা স্বাধীন বাংলা ২৪ এ ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছে কাশ্মীরী পণ্ডিতদের ওপর লেখা আমার উপন্যাস লাল চিনার পাতা । আমি ধন্যবাদ জানাই পত্রিকার সম্পাদক ভাই Md Ataur Rahman কে । এই উপন্যাসে যে ঘটনা এবং চরিত্র গুলো তুলে ধরেছি তা কাল্পনিক ।

১৯৯০ এর ১৯ এ জানুয়ারি কাশ্মীর উপত্যকায় যা ঘটেছিল, যার জন্য সাড়ে তিন লক্ষ কাশ্মীরী পণ্ডিতকে সে দিন উপত্যকা ত্যাগ করতে হয়েছিল যা অনেকের ই অজানা থেকে গেছে , সেই জ্বলন্ত চিত্র তুলে ধরেছি আমার এই উপন্যাসে । উপন্যাসের প্রথম পর্ব প্রকাশিত হবার পর আমি আর ভাই আতাউর দুজনেই খুব ভয়ে ছিলাম , এঁকে কাশ্মীরী পণ্ডিতদের ওপর লেখা উপন্যাস তার ওপর বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত হচ্ছে । কিন্তু প্রথম পর্ব প্রকাশিত হবার পর যখন লেখাটার ওয়েব লিঙ্ক ফেসবুকে প্রকাশিত করলাম, দুই বাংলার পাঠকের অসাধারণ প্রতিক্রিয়া পেলাম, যা পেয়ে আমরা মুগ্ধ । আমার কাছে অনুরোধ আসতে থাকে পরের পর্ব কবে প্রকাশিত হবে । একজন লেখিকার কাছে পাঠকের এরকম প্রতিক্রিয়া কোন অ্যাকাডেমি পুরস্কার পাবার চেয়ে কম না । উপন্যাসের নবম পর্ব প্রকাশিত হলে পাঠকরা আমাকে অনুরোধ করেন দিদি বই আকারে লাল চিনার পাতা প্রকাশ করুন, এই বই সংগ্রহ করে রাখার মতন একটি উপন্যাস । ধারাবাহিক উপন্যাস তাই মাঝে খান থেকে আমার বহু পাঠক পুরো লেখাটা পড়ার সুযোগ পান নি , তাঁদের কাঁথা মাথায় রেখে লাল চিনার পাতাকে গ্রন্থের আকারে প্রকাশিত করা ।

 

এই উপন্যাস আরম্ভ করার আগে আমি জুতসি পরিবার আর সালা পরিবারের অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি, ওনারা ১৯৯০ এঁর ১৯এ জানুয়ারির পর কাশ্মীর ছেড়েছিলেন । তাঁদের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে পথ চলা আরম্ভ করলাম। তাছাড়া কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ক্যাম্পের ওপর বহু ডকুমেন্ট্রি দেখেছি, রাজত্রঙ্গিনি পড়েছি, আমার মনের ওপর এর যে ভয়ঙ্কর প্রভাব পরেছে, তার প্রতিফলন এই উপন্যাস ।এতে সাধারণ মানুষের সুখ দুঃখে অনুভূতিও তুলে ধরছি ।

 

উপত্যকায় বাসবাসকারি প্রতিটি মুসলিম পরিবার দেশদ্রহী, তারা হিন্দু বিদ্বেষী, এ আমাদের ভুল ধারনা, তা এই উপন্যাস পড়লে পাঠকরা বুঝতে পারবেন । এখনও উপত্যকায় বহু পণ্ডিত পরিবার থাকেন যারা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোন সাহায্যই পান নি , কিন্তু তারা কাশ্মীর উপত্যকায় এখনও বসবাস করছেন এবং তারা বসবাস করছেন তাঁদের প্রতিবেশীদের ওপর নির্ভর করে । তাঁদের প্রতিবেশীরা মুসলমান ।

Loading...

আরো খবর »