শিক্ষিকার আত্মহত্যা: সহকর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

রাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির ‘আত্মহত্যা’ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তারই এক সহকর্মীকে আসামি করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।

আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার দায়ে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আতিকুর রহমানকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম ।

তিনি জানান, তদন্তে আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষক আকতার জাহানকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার প্রমাণ মিলেছে।

গত ২৫ আগস্ট রাজশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মতিহার থানা পুলিশ এ চার্জশিট দিয়েছে বলে শনিবার নিশ্চিত করেন মতিহার থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুব হাসান।

তবে চার্জশিটে আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে আতিকুর রহমানকে একমাত্র আসামি করার বিষয়টি তখন তিনি নিশ্চিত করেননি।

ওসি (তদন্ত) মাহবুব হাসান বলেন, ‘আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন। তবে যাদের আসামি করার কথা তাদেরই করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখন সম্পূর্ণ এখতিয়ার আদালতের।’

এদিকে এক বছর পার হওয়ার পরও আইনি কার্যক্রম ঠিকমতো শুরু না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে শিক্ষিকার ছেলে আয়মান সোয়াদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,  ‘আমি মামলার বিষয়ে তেমন কিছুই জানি না। তবে চাই দ্রুত বিচারকাজ শুরু হোক।’

গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে আকতার জাহানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় ওই কক্ষ থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়- যেখানে তিনি আত্মহত্যার কারণ হিসেবে শারীরিক ও মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া তার সন্তান আয়মান সোয়াদ আহমেদকে যেন তার বাবা তানভীর আহমেদ নিজের হেফাজতে নিতে না পারে সে বিষয়ে উল্লেখ করেন।

লাশ উদ্ধারের পর দিন ১০ সেপ্টেম্বর আকতার জাহানের ছোটভাই কামরুল হাসান রতন বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তার সাবেক স্বামী ও একই বিভাগের শিক্ষক তানভীর আহমেদকে ৫ বছরের জন্য বহিষ্কার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সেলিনা পারভীনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

পরবর্তী সময়ে আকতার জাহানের সহকর্মী একই বিভাগের শিক্ষক আতিকুর রহমান রাজাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরে এই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আতিকুর রহমান রাজাকেও শিক্ষক পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »