খোকসায় নির্যাতীত গৃহবধূকে উদ্ধার

Feature Image

খোকসা:  শ্বশুর বাড়িতে শারীরিক নির্য়াতনের পর ঘরে আটকে রাখা গৃহবধূকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। মামলা হবে আহত গৃহবধূর বাবার পরিবারের লোকেরা আসার পর। কুষ্টিয়ার খোকসার কমলাপুর মধ্যপাড়া থেকে রবিবার বিকালে গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়।

মকবুল হোসেন মস্টারের বখে যাওয়া পুত্র ফজলে রাব্বি সবুজ (৩২) এর সাথে প্রায় ৪ বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করে তাসমেরী রহমান খান বর্ষা (২২)। তাদের বিয়ে মেনে নিতে পারেনি ছেলে পরিবার। চুন থেকে পান খসলে নববধূ বর্ষার ওপর শুরু করা হয় অমানবিক শারীরিক নির্যাতন। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবার বিকালে গৃহবধূকে ঘরে আটকে শারীক নির্যাতনের এক পর্যায়ে তাকে বন্ধ ঘরে আটকে রাখা হয়।

 

এ সময় গ্রামবাসী একাট্টা (এক জোট) হয়ে গৃহবধূ বর্ষাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়ে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘরে আটক গৃহবধূকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বর্ষাকে থানায় নিয়ে আস হয়। গৃহবধূ বর্ষার সমস্ত শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে সে জানায়। এ সময় নির্যাতন কারী স্বামী সবুজকে আটক করে থানায় আনা হলেও নির্যাতনের সাথে জড়িত শ্বাশুরি মনোয়ারা খাতুন ও দুই ননদ লিপি ও সুমিকে পুলিশ ছেড়ে দিয়ে আসে বলে উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ থানায় বসে অভিযোগ করে।

গৃহবধূ তাসমেরী রহমান খান বর্ষা সাংবাদিকদের জানায়, বিয়ে করে শ্বশুর বাড়ি আসর পর থেকে তার স্বামী শ্বাশুরী ননদ সবাই তার উপর শরীরীক ও মানষিক নির্যাতন করে আসছে। রবিবার সকাল থেকে তার উপর দফায় দফায় শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এ দিন শ্বাশুরী ও দুই ননদ বেশী মেরেছে। তারাই তাকে ঘরে আটকে রাখার পরামশ্য দেয়।
থানায় আটক স্ত্রী নির্যাতন কারী স্বামী ফজলে রাব্বি সবুজ বলেন, বর্ষাকে সব মেনেনিয়েই সংসার করতে হবে। সংসারে গরমিল হলে এক আধটা চর থাপ্পর ব্যাপার না। সংসাররে না থাকতে চাইলে নিজে তালাক দিয়ে যেতে হবে।

গৃহবধূকে আটক অবস্থা থেকে মুক্ত করার কথা স্বীকার করেন থানার দায়িত্বে থাকা ওসি তদন্ত চাকলাদার মোঃ আসাদুজ্জামান। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখার হয়েছে বলেও জানান। গৃহবধূর বাবার বাড়ির লোকেরা চাইলে মামলা হবে। তবে স্বামী স্ত্রীর ব্যাপার মিটে যেতে পারে বলেও তিনি জানান।

আরো খবর »