কুয়াকাটায় পর্যটকদের বার্মিজ পন্য বর্জন

Feature Image

কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকরা বার্মিজ পন্য বর্জন করেছেন। সমুদ্র সৈকতের কোনও দোকানেই আগের মতো বার্মিজ পন্য বিক্রি হচ্ছেনা। কেনার আগে বার্মিজ কিনা নিশ্চিত হয়ে কেনার ঝোক দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে দেশী আচার, চকলেট, কাপড় ও প্রসাধণী চেয়ে নিচ্ছেন তারা। অন্তঃত ৫০জন পর্যটকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদ স্বরূপ বার্মিজ পন্য বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েই ওইসব পন্য ক্রয় থেকে বিরত রয়েছেন তারা।

 

গত কয়েকদিন ধরে সৈয়কতের দোকানীদের মধ্যে এমন আলোচনা শোনা গেলেও বড় আকারে প্রভাব পড়ে গতকাল থেকে। রাজধানীর উত্তরা থেকে স্বপরিবারে কুয়াকাটায় বেড়াতে খাদিজা বেগম। তিনি বলেন, বাচ্চাদের বন্ধুরা একযোগে রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদ স্বরূপ বার্মিজ পন্য বর্জনের শপথ নিয়েছে। তাই মানবিক কারণে বাচ্চাদের অনুরোধে আমরা কোন প্রকার বার্মিজ পন্য সংগ্রহ করছিনা। ঢাকার মিরপুর থেকে আসা আবুল কালাম বলেন, ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় আসা পড়ে। প্রতিবারই বার্মিজ পন্য কিনে আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের জন্য নিয়ে যাই। এবার ইচ্ছা করেই কিনছিনা।

কুয়াকাটা শ্রী-মঙ্গল বৌদ্ধ বিহারের সামনে ইত্যাদি ফ্যাশনের মালিক মিলন জানান, তার চেহারা দেখে গত পাঁচদিনে কোন পর্যটক ওই দোকানে আসেননি। পর্যটকরা ধারণা করেছেন ওই ব্যবসায়ী মিয়ানমারের নাগরিক। তবে মিলন এমন সমস্যা থেকে পরিত্রান পেতে বাধ্য হয়ে পর্যটকদের সাথে কথা বললে পর্যটকদের ভুল ভাঙ্গে। তবে পর্যটকরা তার দোকান থেকে কোন প্রকার বার্মিজ পন্য সংগ্রহ করেননি। এমন অবস্থা শুধু মিললের নয়, সৈকত লাগোয়া বার্মিজ পন্যের পসরা সাজিয়ে রাখা অন্তঃত ৩০০ ব্যবসায়ী, রাখাইন পল্লীর শতাধিক দোকান, ভূইঁয়া মার্কেটের শতাধিক দোকানসহ প্রায় এক হাজার বার্মিজ পন্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের। বার্মিজ পন্য বর্জনের নীতিবাচক প্রভাবে রাখাইন কর্তৃক পরিচালিত রাখাইন মহিলা মার্কেটের ১৫ টি দোকানের মধ্যে ৬ টি দোকান খোলা রয়েছে। পাশ্ববর্তী ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি হলেও ক্রেতাদের এমন সিদ্ধান্তে নীতিগত সমর্থন রয়েছে তার।

 

সৈকত লাগোয়া বার্মিজ পণ্য বিক্রেতা জুলহাস, জুয়েল ও সুমন নামের দোকানীও জানান, পর্যটকরা বার্মিজ পন্যের কথা শুনলে কিনতে চায় না। কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, তার ব্যবস্থাপনায় গত ২-৩ বছর ধরে বার্মিজ পন্যের দোকান ছিল। রোহিঙ্গা ইস্যূ নিয়ে বার্মিজ পন্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নীতিবাচক প্রভাব পড়বে এমন ধারণা থেকে সম্প্রতি লক্ষাধিক টাকা লোকসান দিয়ে ঢেউ নামের একটি খাবার হোটেল দিয়েছেন তিনি। সাগর পাড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সুমন বলেন, আমরা বিশেষ বিশেষ ছুটির দিনে বেশি ক্রেতা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকি। তবে এবার ঈদে বেড়াতে আসা পর্যটকরা বার্মার পন্য শুনেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। চট্রগ্রাম ও কক্রবাজার থেকে বার্মিজ সামগ্রী ক্রয় করে কুয়াকাটায় পাইকারি বিক্রয়কারীদের একজন জাকারিয়া জাহিদ বলেন, বার্মা থেকে আসা ওইসব পন্যের চাহিদা না থাকায় পাইকারী বাজারে দাম কমেছে।

আরো খবর »