উদীয়মান কবি সানি’র জীবনের প্রথম কবিতা স্বাধীনতার মর্মকথা’

Feature Image

নবম শ্রেণির ছাত্রাবস্থায় রচিত এ সময়ের উদীয়মান তরুণ কবি ফয়সাল হাবিব সানি’র জীবনের প্রথম কবিতা

অামার দেশের নাম বাংলাদেশ,

সবুজের সমারোহে দেশটি বেশ।

প্রচলিত রয়েছে হরেক রকম খেলা,

ক্রিকেট, ফুটবল অারও নানান খেলার পালা।

দেশটিতে রয়েছে অনেক ইতিহাস,

একাত্তরে রাস্তায় পড়েছিলো অনেক লাশ;

লাশের বিনিময়ে অর্জিত হলো অামরাই করব এদেশে বাস।

বাংলা ভাষায় হানা দিয়েছিলো যারা,

দেশের প্রকৃত শত্রুই তারা;

তবে তাদের হিংস্রতা, শত্রুতা, বর্বরতা—

লিখে রাখবে না ইতিহাসের পাতা।

বাঙালির দামাল ছেলে বিলিয়ে দিলো জীবন,

ভুলে গেলো মরণ;

ত্রিশ লক্ষ জীবনের বিনিময়ে অামরা পেলাম প্রিয় স্বাধীনতা,

দেশ থেকে দূর হলো পরাধীনতা।

মহাকাল লিখে রাখলো এক নতুন অধ্যায়,

ইতিহাসের পৃষ্ঠায়;

বাঙালির জীবনদান—

রক্তের প্রতিদান।

সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার এদেশের বীর সন্তান;

রক্তের পানিতে করেছিলো স্নান।

অস্ত্র, গোলাবারুদ না।

দুই হাত, দুই পা অার

দেশের প্রতি অকৃত্রিম মমতা;

এই ছিলো বাঙালির মূল হাতিয়ার—

বাঙালিরা হানাদারদের পরাজিত করেছে বারবার।

জাতির জনক শেখ মুজিবুর,

বাড়ি কি গাজীপুর?

না, বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া।

বাংলাদেশ হতো কি স্বাধীন তাকে ছাড়া?

হয়তোবা না; কারণ তিঁনিই ডাক দিয়েছিলেন লক্ষ লক্ষ মানুষকে…

তারা শুনেছিলো তার সাড়াকে।

তারপর শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ…

অংশ নিলো কৃষক, শ্রমিক, মজুর এমনকি বৃদ্ধ।

শিশুরাও ছিলো না এই যুদ্ধে পিছিয়ে,

সহযোগিতার হাত দিলো এগিয়ে।

সবার চোখে ঘুম হারাম!

বাঙালি কি তাহলে ভুলে গেলো অারাম?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেই বাঙালিকে বলেছিলেন অারামপ্রিয়,

অামার মতে তাঁরা অাসলেই স্বাধীনতাপ্রিয়।

তাইতো, স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য তাঁরা অানলো ছিনিয়ে—

অাকাশে দিলো রঙ-বেরঙের ঘুড়ি উড়িয়ে।

প্রতিটি ঘুড়িতে লেখা একটি নাম `বাংলাদেশ’

দেশটিতে সেই সময় ছিলো না কোনো হিংসা-বিদ্বেষ।

এভাবেই, পৃথিবীর বুকে ভূমিষ্ঠ হলো একটি দেশ

লাল-সবুজের বাংলাদেশ।

কেনো বলা হলো লাল-সবুজের বাংলাদেশ?

কারণ শহীদদের তাজা রক্ত ও সবুজ-শ্যামলিমার সংমিশ্রণে এই দেশ।

একচল্লিশ বছর পর অাজ অামরা কি স্বাধীন;

নাকি পরাধীন?

অাসলে যে স্বাধীনতা লুকিয়ে অামাদের মনের অন্তরে

তা অনেক গহীন।

স্বাধীনতাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে প্রথমেই দরকার দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা,

দেশের জন্য কিছু করার প্রবল বাসনা,

দেশকে অনেকদূর নিয়ে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা ও কামনা।

কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এই বাংলাদেশকেই বলেছিলেন সকল দেশের রাণী;

কারণ, এদেশের অপূর্ব রূপ ছাড়াও রয়েছে হাজার জ্ঞানী, কতো সানি।

অামাদের দেশে রয়েছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান,

রয়েছে বিভিন্ন মনীষির কীর্তিস্থান।

প্রতিটি মনীষির হৃদয়ে লুকিয়ে রয়েছে একটি শব্দ স্বাধীনতা;

কখনোই তা নয় হীনতা।

অামরা চাই কিসের স্বাধীনতা?

দেশের স্বাধীনতা, নিজের স্বাধীনতা নাকি অাত্নার স্বাধীনতা?

অাসলে অামরা কখনোই চায় না পরাধীনতা;

তাইতো অাজ লেখা হয়ে গেলো এতো কথা।

যাঁরা করেছেন স্বাধীনতাকে সমৃদ্ধ,

তাঁদের জন্য গড়ে উঠেছে সাভারের স্মৃতিসৌধ।

তাঁরা সেখানে ঘুমোচ্ছে;

কারণ, তাঁরা ক্লান্ত; তাঁরা খুবই পরিশ্রান্ত।

কারণ, স্বাধীনতা অর্জিত হলেও অাজও অামরা অনেকটাই পরাধীন;

অাজও অামরা অন্যের অধীন।

তাহলে চির স্বাধীনতা কি বাঙালি কখনোই পাবে না?

চির স্বাধীনতা কি বাঙালিদের কাছে কখনোই ধরা দেবে না?

এই প্রশ্ন এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে—

কারণ স্বাধীরতাকে চেনার পথপ্রদর্শক বই সবসময়-——ই তাঁদের পাশে।

এই বই পড়ে তাঁরা হাসে, অাবার তাঁরাই কাঁদে।

এই বই-ই ফুটাবে স্বাধীনতার মূল,

একসময় সবার মিলিত প্রয়াসে ফুটবে স্বাধীনতার ফুল।

রচনাকাল: ১৪/০৯/২০১১ইং (বুধবার)।

Loading...

আরো খবর »