নাফ নদীতে নৌকাডুবি : আরো এক রোহিঙ্গার মৃতদেহ উদ্ধার

Feature Image

কক্সবাজার : টেকনাফের নাফ নদী হতে আরো এক রোহিঙ্গার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে সাতজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হলো। আজ বুধবার ভোরে নাফ নদের নাজির পাড়া ও শাহপরীরদ্বীপ পয়েন্ট থেকে এসব মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, সোমবার দিবাগত রাতে নাফ নদের নয়া পাড়া পয়েন্টে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ রোহিঙ্গার লাশ এগুলো।

উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলোর মধ্যে শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়া পয়েন্টে তিনজন শিশু, ২ জন পুরুষ ও টেকনাফের নাজির পাড়া পয়েন্টে ২ জন নারীর লাশ। এদিকে সময় গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে লাশের মিছিল বাড়তে পারে বলে ধারনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার রাতে নাফ নদে ও সাবরাং নয়া পাড়া পয়েন্টে একটি রোহিঙ্গা বোঝাই
নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার ভোলাইয়া প্রতিদিন সন্ধ্যার পর দুটি ট্রলারযোগে মিয়ানমারের মংডু হতে রোহিঙ্গা বোঝাই করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ কাজ চালিয়ে থাকেন। এরই একটি ট্রলারে বেশী টাকার লোভে অতিরিক্ত রোহিঙ্গা বোঝাই করে নিয়ে আসতে গিয়ে ডুবে যায়। সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ির কারণে সব ধরনের নৌ যান নদীতে যেতে না পারলেও রহস্যজনক কারণে প্রতিনিয়ত ভোলাইয়ার মাছ ধরার ট্রলার দুটি অবাধে নাফ নদীতে চলতে দেখা যায়। এ সময় বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করলেও অনেকে নিখোজঁ রয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

তবে বিজিবির স্থানীয় বিওপি কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, তার কর্ম এলাকায় এ ধরনের নৌকা ডুবির সংবাদ জানা নেই। হয়তো অন্য এলাকায় ঘটেছে।

কোস্ট গার্ড শাহপরীরদ্বীপ ষ্টেশন ইনচার্জ মোস্তফা কামাল বলেন, নৌকাডুবির সংবাদ শুনেছেন তিনি। তবে নিখোঁজ বা নিহতের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোঃ মাইন উদ্দিন খান জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত নাফ নদের দুটি পয়েন্ট দিয়ে সাতজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলো মিয়ানমার হতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের লাশ। তাই বেওয়ারিশ হিসেবে এসব মৃতদেহ গুলো স্ব স্ব এলাকায় দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের আরাকান( রাখাইন) রাজ্যে সহিংস ঘটনার পর পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা বোঝাই অন্তত ১৫টি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহতের সংখ্যাও ১০০ জন ছাড়িয়ে গেছে, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশী।

Loading...

আরো খবর »