রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞ মানবতাবিরোধী অপরাধ

Feature Image

মিয়ানমারের রাখাইনে সরকারি বাহিনীর জ্বালাও-পোড়াও এবং নৃশংস হত্যাযজ্ঞকে জাতিগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি শামীম আহসান। মিয়ানমারের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে সেখানে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সভায় উপস্থিত অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরা। এর আগে, রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের হাই-কমিশনারের দেয়া বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে মিয়ানমারের প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, আরাকান স্যালভেশন আর্মির প্ররোচনায় দেশ ছাড়ছেন রোহিঙ্গারা।

মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে গুরুত্ব পায় রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর নৃশংসতা এবং প্রাণ ভয়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার বিষয়গুলো। সভায় বাংলাদেশি প্রতিনিধি শামীম আহসান শুদ্ধি অভিযানের নামে রাখাইনে চলমান মিয়ানমার বাহিনীর নারকীয়তার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ প্রতিনিধি শামীম আহসান বলেন, ‘শুদ্ধি অভিযানের নামে ১০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, শিশু, নারীসহ নিষ্পাপ তিন হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যা করে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী। এখনো, নিরীহ রোহিঙ্গাদেরকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির সরকারি বাহিনী এবং উগ্র বৌদ্ধরা। এ ধরনের নৃশংসতা জাতিগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ ছাড়া কিছুই না।’

সভায় পাকিস্তানের প্রতিনিধি ফারুখ আমিল মিয়ানমার বাহিনীর জাতিগত নিধনের বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করে সমস্যা সমাধানে সবাইকে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘে পাকিস্তান প্রতিনিধি ফারুখ আমিল বলেন, ‘মিয়ানমারে জাতিগত নিধন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মিয়ানমার বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধে সবাইকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে মিয়ানমারের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে বাংলাদেশ থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

শনিবার জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের হাইকমিশনার জেইদ রাওদ আল হুসাইন মিয়ানমারের বাহিনীর অভিযানকে হিংস্র আখ্যা দিয়ে পাঠ্যবইয়ে লিখিত জাতিগত নিধনের সঙ্গে তুলনা করেন। এদিন মিয়ানমারের প্রতিনিধি তার এ বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আরাকান স্যালভেশন আর্মির প্ররোচনায় রাখাইন ছাড়ছেন রোহিঙ্গারা।

জাতিসংঘে মিয়ানমার প্রতিনিধি টিন লেন বলেন, ‘জাতিগত নিধন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ অনেক বড় অর্থ বহন করে। যা, শুধু আইনগত স্বীকৃতির পরই ব্যবহার হতে পারে। দলিল প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভুলভাবে পরিচালিত করবে। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে হাইকমিশনারের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আরাকান স্যালভেশন আর্মির সদস্যরা তাদেরকে অন্যদেশে পুনর্বাসিত করার মিথ্যে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের প্রচোরণায় দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন তারা।’

এদিকে, প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বাসস্থান ও খাবার সঙ্কটে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। এ পর্যন্ত পৌনে চার লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসলেও জরুরি ত্রাণের অভাবে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।

শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র অ্যাডরিয়ান অ্যাডওয়ার্ড জানান, এ পর্যন্ত জরুরি ত্রাণবাহী দুটি বিমান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। শিগগিরই আরও ত্রাণ পাঠানো হবে। তবে, জরুরি ত্রাণ সেবার জন্য ১ কোটি ৪৮ লাখ ডলার প্রয়োজন হলেও তহবিলে জমা পড়েছে মাত্র ৫৬ লাখ ডলার।

Loading...

আরো খবর »