যশোর মনিরামপুর ৫ আসনে দুই জোটের ৮ প্রার্থী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাঠে

Feature Image

বিশেষ থেকে কে এম নাজির আহমেদঃ  যশোরের মনিরামপুর ৫ আসনে দুই জোটের সম্ভাব্য ৮ প্রার্থী এখন মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কারন আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচন। আওয়ামীলীগ-বিএনপি জোটের সম্ভাব্য নেতারা এখন নির্বাচনমুখী। তবে উভয় দলেই রয়েছে নেতাদের মধ্যে চরম গ্রুুপিং।

২৪৯টি গ্রাম নিয়ে মনিরামপুর উপজেলা। বর্তমানে জনসংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজারের বেশি। যশোর-৫ সংসদীয় এ আসনটিতে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯০ জন। অবহেলিত এ জনপদে রয়েছে রাজনৈতিক সংঘাত ও গ্রুপিং। কৃষিনির্ভর এ উপজেলার জনসাধারণের জন্য নেই ভালো কোনো বাণিজ্যিক কেন্দ্র, নেই কোনো শিল্প-কলকারখানা এমনকি ভালো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। রাস্তা-ঘাটের অবস্থাও বেহাল। নেতাদের মুখে শুধুই আশার বাণী আর প্রতিশ্রুতি। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য এসব প্রার্থী বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন ঘটা করে। দোয়া চাচ্ছেন জনসাধারণের কাছে। আবার কোনো কোনো নেতা দোয়া আশীর্বাদ চেয়ে ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে ফেলেছেন উপজেলার এ প্রান্তে ও প্রান্ত।

আওয়ামীলীগ-বিএনপির দুই জোটের মধ্যে সম্ভাব্য ৯ জন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এসব প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি জোটের প্রার্থীরা নির্বাচনমুখী আর প্রতিশ্রুতির ডালি নিয়ে মাঠে ছুটছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এসব প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ কাজী মাহামুদুল হাসান, সাবেক ছাত্রনেতা কামরুল হাসান বারী ও আব্দুল মজিদ। এ ছাড়া বিএনপি জোটের সাবেক ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মুফতি মোহাম্মাদ ওয়াক্কাস, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোহাম্মদ মুছা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম নেতা অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক।
বর্তমান সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে প্রস্তুতি চালাচ্ছেন ব্যাপকভাবে। তিনি দলীয় সাংগঠনিক অবস্থানও নিজের অনুকূলে নিতে কাজ করে চলেছেন। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী স্বপন ভট্টাচার্য্য ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতির মাঠে আসেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী হয়ে তিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক ছাড়াই তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট খান টিপু সুলতানের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে স্বপন ভট্টাচার্য্য প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। ইতোমধ্যে তিনি আওয়ামীলীগ দলীয় সংসদ সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তিনিও নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন এমন প্রস্তুতি নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছেন। তিনি মনিরামপুরের জনগণের কাছে দোয়া-আশীর্বাদ চাচ্ছেন।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ কাজী মাহামুদুল হাসান আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে নৌকা প্রতীক চাইবেন। সাংগঠনিক কর্মকান্ডে ও তার প্রকাশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ দিকে দোয়া প্রার্থনা করে ব্যানার ফেস্টুনে উপজেলার গ্রাম থেকে গ্রাম ছেয়ে ফেলেছেন আলহাজ কামরুল হাসান বারী। অন্য দিকে জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ উপজেলার জনসাধারণের কাছে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
বিএনপি জোটের হয়ে নির্বাচন করবেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সভাপতি মুফতি মোহাম্মাদ ওয়াক্কাস। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এ আসন থেকে ৮৬ সালের নির্বাচনে প্রথম অংশ নেন তিনি। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ’৮৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হন তিনি। ’৯১-’৯৬ সালের নির্বাচনেও এ আসন থেকে নির্বাচন করেছেন। সর্বশেষ ২০০১-এর নির্বাচনে ধানের শীর্ষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন। আগামী নির্বাচনেও প্রার্থী হবেন বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি। তবে মুফতি মোহাম্মাদ ওয়াক্কাসকে নিয়ে উপজেলার গ্রামাঞ্চলেও আলোচনা চলছে সাধারণ জনগণের মধ্যে।

 

কেবল মুফতি মোহাম্মাদ ওয়াক্কাস নন, সম্ভাব্য সব প্রার্থীকে নিয়েই সাধারণ জনগণ চায়ের টেবিলে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে আলোচনায় সরব হয়ে উঠেছেন। ধানের শীষ প্রতীকের জন্য দলীয় হাইকমান্ডের কাছে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। বর্তমানে ৩৬ মামলার আসামি হয়েও বিএনপির এই নেতা সাংগঠনিক কর্মকান্ড নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ’৯১-’৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়েছেন তিনি। এ ছাড়াও নিজ ইউপিতে তিনবার এবং পৌর মেয়র হিসেবে দুইবার নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হবেন এমন প্রস্ডুতি নিয়ে মাঠে রয়েছেন তিনি। বসে নেই জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মুছাও। তিনিও এ আসন থেকে ধানের শীর্ষ প্রতীকের জন্য দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে দেন-দরবার করে চলেছেন। নিজ ইউনিয়ন চালুয়াহাটিতে তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন চেয়ারম্যান পদে। ’৮৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও বিজয়ী হয়েছিলেন। ’৭৮-’৯০ পর্যন্ত এ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ’৯০ থেকে ২০০২ পর্যন্ত উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। জামায়াতে ইসলামী বিএনপি জোটে থাকলে এ আসনটি চাইবেন তারা। সে ক্ষেত্রে জেলা জামায়াতের শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হকের নাম উঠে আসছে জনগণের মুখে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, বিএনপি জোটে জামায়াতে ইসলামী এ আসনটি চাইবেন। সে ক্ষেত্রে অ্যাডভোকেট এনামুল হক হতে পারেন প্রার্থী। ২০১৪ সালের ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে গাজী এনামুল হক এ উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান পদে লড়েছেন। ৮১ হাজার ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আমজাদ হোসেন লাভলুর কাছে পরাজিত হন তিনি।

Loading...

আরো খবর »