সোনালী আঁশের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে চাই

Feature Image

কালকিনি(মাদারীপুর) থেকে মোঃ ইকবাল হোসেনঃ  প্রাক কথাঃ বাংলাদেশের পাট শিল্পের খ্যাতি বিশ্বব্যাপি ও সুপ্রাচীন। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ হতদরিদ্র। তাহার ভিতরে শতকরা ৮৫% ভাগ কৃষক হওয়া সত্তে¡ও প্রায় ৪ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে পাট চাষের উপর নির্ভরশীল। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৩-১৪ লক্ষ একর জমিতে পাট চাষ হয়। ৮০-৮৫ লক্ষ বেল কাঁচা পাট উৎপাদন হয় এবং পাট চাষের জন্য প্রতি বছর ৪৫০০-৫০০০ মে:টন পাট বীজের প্রয়োজন হয়।
পাটের প্রকার: পাট দুই প্রকার: যথা (ক) বিজিআরআই (খ) তোষা পাট-০২ ও (৯৮,৯৭), বিজিআরআই তোষা পাট-০৪ (ও ৭২) তোষা পাট উৎপাদনে আমাদের দেশে প্রায় উচ্চ ফলনশীল উফশী পাট বীজ উৎপাদনে আত্ব-নির্ভরশীলতা অর্জন এবং মানসম্মত তোষা পাট উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বৃদ্ধ করণ ও অব্যাহত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাবনার প্রতিফলন ঘটাতে বর্তমান সরকারের তত্ত¡াবধানে পাট বীজ উৎপাদন এবং উন্নত পাট পচন শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করে গ্রাম্য কৃষকদের দোরগোরায় এগিয়ে আসা অতিব জরুরী হয়ে পড়েছে। মান সম্মত বীজের অভাব ও সনাতন পদ্ধতিতে পাটের চাষাবাদ উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার অন্যতম কারণ এবং কৃষকদের উৎপাদন অুনপাতে মূল্য কম থাকায় পাট চাষে আগ্রহ কমে গিয়াছে।

বপন কাল ও ৯৮, ৯৭ জাতটি ১৬ই চৈত্র থেকে বৈশাখ মাসের শেষ পর্যন্ত বপন করা যায়। জমি তৈরী ও বীজ বপন করতে হলে পানি নিষ্কাশনের সুবিধা সহ উর্বর জমি/দো আঁশ মাটি পাট চাষের জন্য উত্তম জমি। ভালো ভাবে চাষ করে প্রতি হেক্টরে ১২৫ মন গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে। হেক্টর প্রতি ৫-৬ কেজি বীজ বপন করতে হবে। বীজ বপনের পর মই দিয়ে মাটি সমান করতে হবে। যদি সারিতে বোনা প্রয়োজন হয়। তবে এক সারি থেকে অপর সারি দূরত্ব ৩০ সি.মি প্রায় ১ ফুট রাখা ভালো। সর্বোচ্চ ফলনের জন্য প্রতি হেক্টরে ইউরিয়া সার ২০০ কেজি, টিএসপি ৫০ কেজি, এমপি ৬০ কেজি, জিপসান ৯৫ কেজি, জিং সালফেট ১১ কেজি দিতে হবে।

পরিচর্যা: চারা গজানোর পর প্রয়োজন অনুযায়ী নিড়ানী, চারা পাতলা করণ, ইউরিয়া সার উপরি ভাগে প্রয়োগ করতে হবে। দীর্ঘায়িত খরা হলে হালকা পানি সেচের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
পাটের রোগ ও পোকামাকড়: আবহাওয়া তারতম্যের কারনে পাট ক্ষেতে উল্লেখ যোগ্য পোকার আক্রমন ও ছত্রাক জনিত রোগ দেখা যায়। বিছা পোকা, উড়– চুংগা, ঘোড়া পোকা, কাতরী পোকা, চেলে পোকা, ছাত্রা পোকা, ছত্রাক ও ভাইরাস জনিত, পাটের কান্ড পঁচা, ঢলে পরা, কালোপট্টি রোগ উল্লেখ যোগ্য। ভাইরাস জনিত রোগের ক্ষেত্রে গাছের গোড়া পরিষ্কার রাখতে হবে, কান্ড পঁচা গাছগুলো তুলে মাটিতে পুঁতে রাখতে হবে। প্রয়োজনে সমস্ত রোগ বালাই থেকে রক্ষা পেতে হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে হবে। উল্লেখ বিছা পোকার আক্রমন থেকে বাঁচতে হলে প্রতিবন্ধক নালা তৈরী করা যায় এবং ১২ লিটার পানিতে ১৮ মিলি ৩.৫ চামচ ডায়াজিনন স্প্রে করতে হয়। পাট কাটার সঠিক সময় ভালো আঁশ এবং ভালো ফলনের জন্য পাট গাছে ফুল ধরা মাত্রই পাট কাটা উচিত। পাটের পচন ভালো উপয় করা উচিত।

দুই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। যথা:
১। সনাতন বা সাধারণ পদ্ধতি।
২। পাটের ছাল পচন পদ্ধতি (বিরাট রেটিং) করা যায়।
পরিবেশে পলিথিন মুক্ত, পরিবেশ দূষণ মুক্ত করতে হলে সোনারী আঁশের বৃদ্ধি সহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটাতে এবং বেকার সমস্যা দূরীকরণে দেশের জুট মিল গুলো চালুু করে পাটের উপকরণ ব্যবহার বাধ্যতামূলক ও নিশ্চতকরণ করতে হবে। সাথে পাট পরিবেশ বান্ধব বনায়নের মতই পাটের সবুজ পাতা বাতাসের কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে নিজের খাদ্যের তৈরী পাশাপাশি অক্সিজেন ত্যাগ, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

আরো খবর »