রোহিঙ্গা এখন মানিকগঞ্জে

Feature Image

মানিকগঞ্জ থেকে জালাল উদ্দিন ভিকুঃ  মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এখন মানিকগঞ্জে এসে পড়েছে। সিঙ্গাইর উপজেলা বিভিন্ন গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে তারা। বুধবার রাতে পুলিশ সিঙ্গাইর থেকে তিন রোহিঙ্গা পরিবারের ২০ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ১১ জন শিশু ৬ জন নারী ও ৩ জন পুরুষ রয়েছে। এদের আশ্রয় হয়েছে সিঙ্গাইর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে। আজ শুক্রবার আটকৃত রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মানিকগঞ্জ অতিরিক্তি পুলিশ সুপার জাকির হাসান জানান, সিঙ্গাইর উপজেলা চারিগ্রামের মাওলানা তাজুল ইসলামের বাড়ি থেকে বুধবার ৯ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। এরা হচ্ছে ফয়েজুল ইসলাম (৩৫) আমেনা খাতুন (৬০) রাফিয়া বিবি (১৮) হাফসা বিবি (২৮) আরমান (৭), রুম্মান (৪) , আব্দুল হান্নান (৩) রুনাত (১) ও হাছিনা আক্তার (৪০) । এছাড়া বুধবার রাতে ধল্লা এলাকার ফিরোজ মুন্সির বাড়ি থেকে আরো ১১ রেহিঙ্গাকে আটক করা হয়। আটককৃতরা মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মংডু জেলার মন্ডুকাদেরবিল গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার এদের কক্সবাজার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে মাওলানা তাজুল ইসলাম জানান চারিগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর তাকে জানান ধল্যা এলাকায় কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার এসেছে। তাদেরকে আশ্রয় দিতে হবে। মঙ্গলবার ৯ সদস্যর ওই রোহিঙ্গা পরিবারটি তাদের বাসায় আসে। বুধবার পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যায়।
অপর দিকে জানা গেছে, এসব রোহিঙ্গা পরিবার ঈদের আগেই মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। এদের মধ্যে হাছিনা আক্তার গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশে আসে। গুলিবিদ্ধ ওই নারী মানিকগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাও নিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাবলীগ জামায়াতের সূত্র ধরে মাওলানা তাজুল ইসলাম ও ফিরোজ মুন্সির সাথে ওই রোহিঙ্গা পরিবারের পূর্ব সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্র ধরেই ওই পরিবারগুলো সিংগাইরে আশ্রয় নিয়েছিল।

এদিকে রোহিঙ্গাদের যেখানে রাখা হয়েছে ওই স্থানে কোনো সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। যে কারণে রোহিঙ্গারা কবে কার সাহায্যে বাংলাদেশের ঢুকে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর এসেছে সেসব তথ্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকদের সাথে রোহিঙ্গাদের কথা বলতে ও ছবি তুলে না দিলেও পুলিশ সিঙ্গাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দদের সেই সুযোগ করে দিয়েছেন। অনেকেই রোহিঙ্গাদের খাবার ও আর্থিক ভাবে সাহায্য করেছেন।

আরো খবর »