‘রাখাইনে ত্রাণ পাঠাতে বাধা নেই, তবে প্রবেশাধিকার সীমিত’

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে ত্রাণ পাঠাতে কোনো বাধা নেই। তবে নিরাপত্তা কড়াকড়িতে সেখানে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার সরকার।

সরকারি বাধায় রাখাইনে ত্রাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখে মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে শুক্রবার এ দাবি করা হয়েছে।

রাখাইন থেকে হত্যা-নির্যাতনের মুখে প্রাণভয়ে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনীর নিপীড়নকে জাতিগত নিধন আখ্যা দিয়ে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা জানিয়েছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্যাট্রিক মারফি মিয়ানমার সফর করে রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের কথা জানান।

এ সময় তিনি সঙ্ঘাতপ্রবণ এলাকায় ত্রাণকর্মীদের অবাধে প্রবেশের ব্যাপারে মিয়ানমারকে চাপ দেন।

শুক্রবার মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হাতয়ে রয়টার্সকে বলেন, আমরা কাউকেই আটকাইনি।

তিনি বলেন, আমরা কোনো সংগঠনকে ওইসব এলাকায় ত্রাণ পাঠাতে বাধা দিচ্ছি না। তবে নিরাপত্তার কারণে স্থানীয় প্রশাসন সেখানে প্রবেশ সীমিত রাখায় ওইসব এলাকায় যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে এটি স্পষ্ট নয় যে মারফি রাখাইন রাজ্যে সফর করবেন কিনা। সেখানে যাওয়ার জন্য এ মার্কিন কূটনীতিকের অনুরোধ গ্রহণ করার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন জ হাতয়ে।

গত ২৫ আগস্ট ভোররাতে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সীমান্ত পুলিশের বিভিন্ন চৌকি এবং একটি সেনাঘাঁটিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা হামলা চালায়। এতে ১২ নিরাপত্তাকর্মীসহ শতাধিক নিহত হন।

এই সংঘর্ষের জের ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে জাতিগত নিপীড়ন শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

এ সংকটকে কেন্দ্র করে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সুচির নেতৃত্বে কয়েক দশক ধরে সেনাশাসনের কবলে থাকা বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারের বেসামরিক শাসনে রূপান্তরিত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

জেনারেলরা এখনো মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা নীতি নিয়ন্ত্রণ করলেও রাখাইনে সহিংসতার নিন্দা না করায় অং সান সুচি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছেন। তবে মুসলিম বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান মিয়ানমারে জনপ্রিয়।

বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মিচ ম্যাককনেল অং সান সুচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এ সময় সুচি দাবি করেছেন, রাখাইনে সহিংসতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ দিতে তিনি কাজ করছেন।

তবে মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী উইন মিয়াত আইয়ে বলেন, এখন পর্যন্ত সংঘাতময় এলাকায় বিদেশি কোনো ত্রাণ সংস্থা প্রবেশ করেনি। তবে এ ধরনের কোনো সংস্থাকে প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

তিনি রয়টার্সকে বলেন, এসব সরকার পরিচালিত কার্যক্রম।

গত বছর অং সান সুচি মিয়ানমারের জাতীয় নেত্রী হওয়ার পর রাখাইনে সহিংসতা এবং রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে চাপের মুখে রয়েছেন।

গত ২৫ আগস্ট ভোররাতে সংঘর্ষের পর রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে সেনা অভিযান শুরু হওয়ায় প্রাণ বাঁচাতে এরই মধ্যে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা সেখানে সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতন-নিপীড়নের বর্ণনা দিচ্ছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলোও রাখাইনে মানবাধিকারের চরম সংকটের কথা বলেছে। সেখানে সেনাবাহিনী মূলত জাতিগত নির্মূল অভিযান চালাচ্ছে বলে দাবি তাদের।

অ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে ভূ-উপগ্রহের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে বলা হয়, গত তিন সপ্তাহ ধরে সেখানে ‘খুবই পরিকল্পিতভাবে একটি নির্দিষ্ট ছকে গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার’ ছবি এখানে উঠে এসেছে।

যদিও মিয়ানমার সরকার বলছে, সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহী আরসাকে দমনে অভিযান চলাচ্ছে এবং বেসামরিক লোকজন তাদের লক্ষ্য নয়।

সংঘাতময় এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে আরসা এক মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও মিয়ানমার সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছে- তারা জঙ্গিদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলাপে যাবে না।

কয়েকটি ত্রাণ সংস্থা জঙ্গিদের খাবার সরবরাহ করছে বলেও অভিযোগ মিয়ানমার সরকারের।

ফ্রান্সভিত্তিক দাতব্য চিকিৎসা সংস্থা মিতস সঁ ফ্রঁতিয়ে কর্তৃপক্ষ রাখাইনে তাদের ক্লিনিক পুড়িয়ে দেয়ার খবর দিয়েছে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »