রোহিঙ্গাদের জামায়াতে নিবন্ধন করছেন সাঈদীপুত্র

Feature Image

নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা মুসলিম রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করাচ্ছেন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে তিনি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করাচ্ছেন।

শামীম সাঈদী নিবন্ধন কার্যক্রম উদ্বোধনের পর বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী, টেকনাফের হ্নীলা, হোয়াইক্যং, সাবরাং ও শামলাপুর এবং বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়িতে নতুন রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করানো হয়। এরপর শুক্রবারও এসব এলাকায় রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করাতে দেখা গেছে।

মূলত ত্রাণ দেওয়ার নামে জামায়াত নিজেদের উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করাচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণের কথা বলে জামায়াত এই নিবন্ধন কার্যক্রম চালাচ্ছে। ছাত্রশিবির কক্সবাজার শাখার নেতাকর্মী ও ফুলকুড়ি আসরের কর্মীরা রোহিঙ্গাদের এসব নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে শামীম সাঈদীর এই নিবন্ধন কার্যক্রমকে উদ্দেশ্যমূলক বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, সরকার রোহিঙ্গাদের সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। তাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করা হচ্ছে। এর বাইরে গিয়ে যুদ্ধাপরাধী সাঈদীপুত্র ও জামায়াত-শিবিরের আলাদাভাবে রোহিঙ্গা নিবন্ধন উদ্দেশ্যমূলক।

তিনি অভিযোগ করেন, রোহিঙ্গাদের সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্যই দলটি এই কাজ করছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানান, রোহিঙ্গাদের মাঝে সাঈদীপুত্রের নিবন্ধন ও ত্রাণ বিতরণের খবর তারা পেয়েছেন। সরকারি নিয়ম মেনে এই ত্রাণ দেওয়া হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ২৫ আগস্ট অন্তত ৩০টি পুলিশ চৌকি ও একটি সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা’র যোদ্ধারা প্রবেশের চেষ্টা করে। এরপর থেকে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রাখাইনে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ অভিযানের নামে নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ ও ঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

ইতোমধ্যে তিন হাজারের অধিক রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। আর নির্যাতনের মুখে প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ এটিকে ‘জাতিগত গণহত্যা’ উল্লেখ করে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তবে মিয়ানমার এসব অভিযোগ শুরু থেকেই নাকচ করে আসছে। উল্টো দাবি করছে, রোহিঙ্গারাই এসবের জন্য দায়ী।

আরো খবর »