গোপালগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী, বিএনপির একাধিক

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

গোপালগঞ্জ  থেকে এস এম সাব্বির: গোপালগঞ্জ-২ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকলেও বিএনপির একাধিক প্রার্থী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ ছাড়া জাতীয় কৃষক পার্টি ও জাতীয় পার্টির থেকেও অনেকে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

গোপালগঞ্জ-২ (সদর ও কাশিয়ানী) এ আসনের বর্তমান এমপি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বারবার নির্বাচিত সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম। বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্যতম এ সদস্য আশৈশব রাজনীতিবিদ। দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে সংসদে এ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। ৭ দফায় নির্বাচিত এ এমপির কাছে প্রতিবারই তার প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরাও তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। শেখ সেলিম আগামী নির্বাচনেও গোপালগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন এটা অনেকটাই নিশ্চিত।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, গোপালগঞ্জের মানুষের সঙ্গে তার আত্মার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি অবহেলিত গোপালগঞ্জের প্রতিটি ঘরে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিয়েছেন। গোপালগঞ্জ শহর এখন উন্নয়নের রোল মডেল। তাই বিগত নির্বাচনগুলোর মতো আগামী নির্বাচনেও গোপালগঞ্জের মানুষ তাকে নির্বাচিত করবেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের পর থেকে দীর্ঘ ২১ বছর নানাভাবে অবহেলিত ছিল গোপালগঞ্জ। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে গোপালগঞ্জে উন্নয়নের হাওয়া লাগলেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি আবারও বদলে যায়। গোপালগঞ্জে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা থেমে যায়। এসব কারণে গোপালগঞ্জের মানুষ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তা ছাড়া এ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থাও একেবারে ভঙ্গুর। সাংগঠনিক তৎপরতা নেই বললেই চলে। তারপরও জেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সাবেক তিন সভাপতি এফই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর, এমএইচ খান মঞ্জু, সাইফুর রহমান নান্টু, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এম মুনসুর আলী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পিনু এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বলে জানা গেছে।

সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেছেন, আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হলেও এ জেলার প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপির কমিটি রয়েছে। তার নেতৃত্বে এ আসনে বিএনপি ভালো অবস্থানে রয়েছে। তিনি দলকে সুসংগঠিত করেছেন। তাই তিনি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

এফই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, ১৯৯১ সালে তিনি গোপালগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচন করেছিলেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে (আওয়ামী লীগ ওই নির্বাচন বয়কট করেছিল) গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার তিনি দুই আসনেই দলের মনোনয়ন চাইবেন।

বিএনপির সম্ভাব্য আরও দুই প্রার্থী এম মনসুর আলী এবং মনিরুজ্জামান পিনু অভিন্ন ভাষায় বলেছেন, তারা আগামী নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন।

জাতীয় কৃষক পার্টির সভাপতি সাহিদুর রহমান টেপা ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আলমগীর হোসেন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। জাতীয় পার্টির মনোনয়নের দৌড়ে অবশ্য সাহিদুর রহমান টেপা এগিয়ে রয়েছেন।

তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগ্রহ দেখিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই দলের কাছে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক রাজনৈতিক দলের মধ্যে জাসদ (ইনু) ছাড়া অন্য দলের তৎপরতা নেই বললেই চলে।

জাসদের (ইনু) জেলা সভাপতি শেখ মাসুদুর রহমান মাসুদ এ আসন থেকে নির্বাচনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ১৪ দলীয় জোটের মনোনয়ন চাইবেন তিনি।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »