মঠবাড়িয়ায় ৮৬ মন্ডপে প্রতিমা নির্মাণ সম্পন্ন, চলছে রং তুলির কাজ

Feature Image

উপজেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

মঠবাড়িয়া থেকে এস.এম. আকাশ: সনাতন ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর মাত্র কয়েক দিন বাদেই মহালয়ার মধ্য দিয়ে নৌকায় চড়ে দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে মর্তলোকে। অহিংসা, পাপ ও অধর্মকে ধ্বংস করতেই দেবীর এ আগমন। বিজয়া দশমীর দিনে ঘোড়ায় চড়ে দেবী দুর্গা মর্তলোক ছেড়ে ফিরে যাবেন স্বর্গলোকে। পাঁচ দিনের এ উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মৃৎশিল্পীরা। এবার উপজেলায় ছোট-বড় ৮৬টি মন্ডপে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। সব কিছু প্রায় শেষ পর্যায়ে, এখন চলছে রং-তুলির আঁচড়ে দেবীকে সাজ সজ্জায় কাজ।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী পুজা থেকে মন্ডপে মন্ডপে বেজে উঠবে ঢাক-ঢোল আর কাঁসের শব্দ। শংখ ধ্বনিতে মুখরিত হবে চারিদিক। পাঁচ দিনের উৎসবের পর ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ঘটবে এর সমাপ্তি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে মহালয়ার দিন  থেকে দেবীর আগমনী উৎসব শুরু হবে। বিগত বছরগুলো থেকে এবার প্রতিমা তৈরির খরচ দেড় গুন বেড়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এরপরও উৎসব মুখরভাবে পুজা সম্পন্ন করতে প্রতিমা ও মন্ডপ এগিয়ে চলছে আলোকসজ্জার কাজ।

উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা যায়, পৌর সভার কেন্দ্রীয় হরি সভা মন্দির, দক্ষিন বন্দর সার্বজনীন মন্দির, রায় মোহন মন্দির, মদন মোহন আশ্রম, গোপাল চাঁদ (বড়িবাড়ি) মন্দির,  ওঝা বাড়ি মন্দির, কবুতরখালী হালদার বাড়ি মন্দির, নির্মল চাঁদ ঠাকুর বাড়িসহ  উপজেলা জুড়ে মন্দিরে মন্দিরে প্রতিমা তৈরী শেষে চলছে রং তুলির কাজ।

খুলনার কয়রা থানা থেকে আসা প্রতিমা শিল্পী শংকর রায় জানান, দুর্গা প্রতিমা তৈরীতে খড়-কুটা, পাট, সূতা, বাঁশ, রশি, রং ও মাটিসহ বিভিন্ন কাঁচামাল দিয়ে কাঠামো তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং ও তুলির আচড়ে প্রতিমাকে দৃষ্টি নন্দন ও সাজ সজ্জ্বার কারুকাজ।

উপজেলা পুজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি বাবু পরিতোষ বেপারী জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবারও সা¤প্রদায়িক সম্প্রিতি বজায় রেখে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভার মেয়র এবং সাংবাদিকদের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বিচ্ছিন্ন কোন দূর্ঘটনা ছাড়াই পুজা সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন হবে। মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম তারিকুল ইসলাম জানান, শারদীয় দুর্গা পুজা উপলক্ষে প্রতিটি মন্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। এছাড়া উপজেলায় মোট ৮৬ টি পুজা মন্ডপের ২৫ টি মন্ডপকে অধিক ঝুঁকি পূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ন পুজা মন্ডপগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়া হবে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »