ড. গোলাপ এমপির অবদান, কালকিনির প্রত্যন্ত গ্রাম এখন শহর

Feature Image

মেহেদী হাসান রনি : মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার গ্রামগঞ্জে কয়েকদিন আগেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ছিলো ঘুটঘুটে অন্ধকার। যেখানে সাধারণ মানুষ হাট-বাজার অথবা হাসপাতালে যেতে অনেক বেগ পেতে হত। ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপির অবদানে কালকিনি উপজেলার সকল রাস্তাঘাট, হাট-বাজার এখন সোলারের বাতিতে আলোকিত।

সোলারের সড়কবাতিতে আলোকিত হচ্ছে কালকিনি উপজেলার জনপথ। দূর হচ্ছে ঘুটঘুটে অন্ধকার। মানসিক প্রস্বস্তি নিয়ে চলাচল করছে কালকিনির সাধারণ মানুষ। নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে সোলার সড়কবাতির এই বিপ্লব ঘটেছে কালকিনি উপজেলায়। বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবহার ও নিরবচ্ছিন্ন আলো সরবরাহে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ চলে গেলেও সড়ক বাতি নেভে না, অন্যদিকে সৌর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে মানুষ।

সরেজমিনে কালকিনি উপজেলার পৌরসভা, আলীনগর, বালিগ্রাম, বাঁশগাড়ী, সিডিখান, রমজানপুর, ডাসার, এনায়েতনগর, গোপালপুর, কয়ারিয়া, কাজীবাকাই, লক্ষীপুর, নবগ্রাম ইউনিয়নের প্রায় বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় রাস্তায় শোভা পাচ্ছে সোলারের মাধ্যমে পরিচালিত সড়ক বাতি। সুউচ্চ খুটির উপর স্থাপন করা হয়েছে লাইট। লাইটের উপর আছে ছোট্ট সোলার প্যানেল। সোলার প্যানেলের নিচে ও লাইটের পিছনের অংশে আছে ব্যাটারি। সারাদিন সূর্যের আলোয় ব্যাটারি চার্জ হয় এবং সারারাত লাইট জ¦লে। রোজ সন্ধ্যায় সূর্য ডোবার সাথে সাথেই জ¦লে ওঠে এসব লাইট, আবার সকালে সূর্যের আলো পড়লে নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে যায়।

কালকিনি উপজেলার পলিন হোটেলের মালিক জানান, অনেকসময় রাতে একটানা বিদ্যুৎ থাকে না, বিদ্যুৎ অফ থাকা সময়ে বাজারে চুরি হবার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু সোলার লাইট সারারাত জ্বলে তাই চুরি হবার ভয় কমেছে। পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ না থাকলেও সোলার লাইট বন্ধ হয় না।

জুরগাঁও বাজারের ফিরোজ ইলেক্ট্রিকের মালিক ফিরোজ আলম জানান, বাজারে দুটি সোলার লাইট দেওয়া হয়েছে। সোলার লাইটের আলোয় পুরো বাজার এখন সারারাত আলোকিত থাকে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এর সুফল পাচ্ছেন। আগে বাজারে সিকিউরিটি গার্ড থাকার পরেও বিদ্যুৎ চলে গেলে চুরি হতো। কিন্তু এখন সোলারের আলো থাকায় চুরি হয় না। তাছাড়া রাস্তা খারাপ হওয়ায় আগে রাতে বাজার এলাকায় ছোট খাটো দুর্ঘটনা হতো। কিন্তু এখন আর তেমন দুর্ঘটনা হয় না।

বালিগ্রামের ধুলগ্রাম এলাকার সিরাজ আকন বলেন, “রাস্তায় সোলার আলো থাকায় এখন আর তেমন চুরি-ডাকাতি হয় না। সবসময় রাস্তায় আলো থাকে। তাই আমাদের চলাচল করতে অনেক সুবিধা হয়।

ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপির অবদানে এখন আমাদের গ্রামকে মনে হচ্ছে শহর। সরকারের এ রকম উন্নয়নে আমরা সাধুবাদ জানাই।”

কালকিনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় পর্যায়ে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় কালকিনি উপজেলায় ২৮৮টি সোলার লাইট স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি সোলার লাইটের জন্য ব্যয় হচ্ছে ৫৬,৫০০ টাকা।

আরো খবর »