ইনকিলাবে ডিসি সুলতানা পারভীন এর সংবাদ নিয়ে কুড়িগ্রাম জেলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া

Feature Image

প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান! শিরোনামে প্রকাশিত ইনকিলাব পত্রিকায় প্রকাশিত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে কুড়িগ্রাম জেলার সর্বস্তরের মানুষ। প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান! প্রধানমন্ত্রীর দফতরে দুর্নীতিবাজদের দীর্ঘ তালিকা সম্পর্কে গত বুধবার দৈনিক ইনকিলাবে একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সারাদেশে বেশ কিছু কর্মকর্তা ও সাবেক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি সম্পর্কিত দৈনিক ইনকিলাবের সংবাদটি ব্যাপক ভাবে সমালোচিত হয়েছে সমগ্র কুড়িগ্রাম জেলায় । সচিব, অতিরিক্ত সচিব ,যুগ্মসচিব, উপসচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব, বিশেষ করে ডিসি, ইউএনও, এসিল্যান্ডদের দুর্নীতির অভিযোগ সর্বস্ব এই সংবাদটির ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সারাদেশে লক্ষ্য করা গেলেও কুড়িগ্রামের চিত্র ছিল ভিন্ন মাত্রার।

গতকাল থেকে অদ্যাবধি সমগ্র কুড়িগ্রাম জেলায় দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত সংবাদটি নিয়ে সুধীজন সহ সাধারণ জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ পরিলক্ষিত হয়েছে। অনেকেই এই সংবাদটির সত্যতা ও বাস্তবতা নিয়ে বিরোধ মত প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে এই তালিকায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুলতানা পারভীন এর নাম দেখে সমগ্র জেলায় বিস্ময়, ক্ষোভ ও ঘৃণা সৃস্টি করেছে। কুড়িগ্রাম জেলা শহরে, টক অব দ্য টাউনে, সর্ব মহল থেকেই ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি,বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মন্ডল কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুলতানা পারভীন সম্পর্কিত দৈনিক ইনকিলাব এর সংবাদে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ডিসি সুলতানা পারভীনকে নিয়ে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ যাবৎ তিনটি ভিডিও কনফারেন্স করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ আমরা সকলই তাঁর পারফরমেন্সে সন্তোষ প্রকাশ করেছি। প্রকাশিত সংবাদে ডিসি সুলতানা পারভীন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে কবে কোথায় হয়রানি করেছেন ? ডিসি সুলতানা পারভীন সম্পর্কে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে কুড়িগ্রামের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা যাবেনা। মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক কল্যাণ সহ এমন কিছু দৃষ্টান্তমূলক,সম্মানজনক কাজ ডিসি সুলতানা পারভীন এর আছে যা ইতোপূর্বে আমরা কোন জেলায় কোন ডিসির মাধ্যমে সম্পন্ন করতে দেখি নাই।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রবীণ হৈতিষি সংঘ ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি , কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সিনিয়র সিটিজেন সামিউল হক নান্টু বলেন, এ সম্পর্কে আমি শুনেছি মাত্র, রাজাকারের পত্রিকা ইনকিলাব আমি পড়িনা। তবে ডিসি সুলতানা পারভীন সম্পর্কে যে কথাগুলো ইনকিলাবে এসেছে তা ভুয়া, ভিত্তিহীন। দুর্নীতি বিরোধী কর্মকান্ড নিয়ে আমি কাজ করছি। ডিসি সুলতানা পারভীন সম্পর্কে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ইতোপূর্বে শুনি নাই। অভিযোগ থাকলে সেটা তদন্তের পর মন্তব্য করা যাবে। ডিসি সুলতানা পারভীন কুড়িগ্রামে গণমানুষের কাছে একজন প্রিয় ডিসি হিসাবে নন্দিত ও পরিচিত। তিনি এই মিথ্যা সংবাদ প্রকাশে তীব্র প্রতিবাদ ব্যক্ত করেছেন।

দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত বিষয়ে কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীন সম্পর্কে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সুরে কুড়িগ্রাম মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম টুকু বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডিসি সুলতানা পারভীন কুড়িগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ ভাবে সম্মানিত করেছেন। জামাত,শিবির রাজাকারের ইনকিলাবে কি লিখল, এ নিয়ে আমরা ভাবিনা। মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি হয়না কখনো। তিনি এই ভুয়া সংবাদ পরিবেশনাকে কুড়িগ্রাম উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেছেন। ডিসি সুলতানা পারভীন সম্পর্কে কোন মুক্তিযোদ্ধা পরিবার অথবা কোন কর্মচারী হয়রানির ঘটনা কোন দিন ঘটেনি। এগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথাবার্তা।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতের রক্তিম ছাপ ও ছবি সম্বলিত একটি ডকুমেন্টারি ”বীরগাঁথা” তৈরী করে ডিসি সুলতানা পারভীন ব্যাতিক্রম একটি কাজ করেছেন। ডকুমেন্টারির প্রতিটি খণ্ডের প্রতি পাতায় মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন্ত স্পর্শ রয়েছে। ৬টি ভলিউমে ১৩২টি খণ্ডে প্রস্তুতকৃত ডকুমেন্টারিতে কোনো দলিল বা তথ্যের ছায়ালিপি ব্যবহার করা হয়নি। ২৭৩০ জন জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধার দুই হাতের ছাপসহ তাদের তথ্য এবং ১৫৭১ জন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার তথ্যসহ মোট ৪২৭৩ জন মুক্তিযোদ্ধার তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা এই ডিসি সুলতানা পারভীন করেছেন।

আরেক সিনিয়র সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, স্কাউট আন্দোলনের নেতা ও প্রবীণ শিক্ষক শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, এ গুলো ডাহা মিথ্যা কথা। কুড়িগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে যা করেছেন ডিসি সুলতানা পারভীন, ইতোপূর্বে কোন ডিসি তা করেননি। তিনি উলিপুরে বিজয় মঞ্চ সহ সকল উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্যে বিশেষ ভাবে কাজ করছেন। ডিসি সুলতানা পারভীন কর্তৃক গৃহীত সকল পদক্ষেপ কুড়িগ্রামের সাধারণ জনতা, বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে অদূর ভবিষ্যতে অনেক কল্যাণ বয়ে আনবে।

বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, রূপসী বাংলার স্বত্বাধিকারী জিল্লুর রহমান টিটু বলেন, ইনকিলাবের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মান্নানের ইতিহাস, রাজাকারী ইতিহাস। ইনকিলাবে প্রকাশিত সংবাদটির প্রতিবেদক এই কুড়িগ্রামের উলিপুরের মানুষ। আমরা সকলেই তার ইতিহাস জানি। হয়ত ডিসি সুলতানা পারভীন তাদের কোন অন্যায়, অনৈতিক আবদার রক্ষা করতে পারেননি। সে জন্যে নিয়োগ বাণিজ্য সহ ফালতু কিছু অভিযোগ উল্লেখ করেছে। আমরা এই হলুদ সাংবাদিকতার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি ও চ্যালেঞ্জ করছি। কুড়িগ্রামের সর্ব মহলে ডিসি সুলতানা পারভীনের কর্মকান্ড সম্মানের সঙ্গেই আলোচিত হচ্ছে।

এই প্রতিবেদক কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান চালিয়ে দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কুড়িগ্রামের ডিসি মোছাঃ সুলতানা পারভীন সম্পর্কে আনীত অভিযোগ সমূহের কোন বাস্তবতা খুঁজে পায়নি। বাস্তবিক অর্থে এরকম অভিযোগে সমগ্র জেলায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে ।

আরো খবর »