উচ্চহারে ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস, ঠেকানো কঠিন

Feature Image

আক্রান্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কাছ থেকে গড়ে দুই থেকে তিনজনে ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস। সংক্রমণের এই উচ্চহারের কারণে করোনাভাইরাস ঠেকানো কঠিন হবে। করোনাভাইরাস নিয়ে দুটি আলাদা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এ তথ্য মিলেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বর্তমান হারে করোনাভাইরাস সংক্রমণ অব্যাহত থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে এটা মোকাবেলায় কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায় তার ওপর। তবে এই ভাইরাসের মহামারি আকার ধারণ করা ঠেকাতে এর সংক্রমণ অন্তত ৬০ শতাংশ কমাতে হবে।

এদিকে গতকাল রবিবার বিকেল পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা উন্নীত হয়েছে ৫৭-তে। চীনের উহানে প্রায় দুই হাজার ব্যক্তির করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে হংকংয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ষষ্ঠ ঘটনা ঘটেছে। সংক্রমণের শঙ্কায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ডিজনিল্যান্ড। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় তৃতীয় এক ব্যক্তির করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ নিল ফার্গুসন বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।’

ফার্গুসনের গবেষণাদল ধারণা করছে, গত ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রায় চার হাজার ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত প্রত্যেক ব্যক্তি থেকে গড়ে দুই থেকে তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটছে।

দ্বিতীয় গবেষণায় যুক্তরাজ্যের ল্যানক্যাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার নির্ণয় করে দেখেছেন, একজন থেকে গড়ে আড়াই জনের মধ্যে এ ভাইরাস সংক্রমিত হচ্ছে। ওই বিজ্ঞানীরা লিখেছেন, ‘উহানে এই ভাইরাস সংক্রমণ মহামারি আকার ধারণ করবে। আমরা আশঙ্কা করছি, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।’

গত ডিসেম্বর মাসে উহান শহরে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। ল্যানক্যাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষকদের ধারণা, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে উহান শহরেই করোনাভাইরাস সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা এক লাখ ৯০ হাজারে উঠতে পারে। আর সেই সংক্রমণ চীনের অন্যান্য শহরে ছড়াবে। বাদ যাবে না অন্য দেশগুলোও।

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের কিরবি ইনস্টিটিউটের বায়োসিকিউরিটি রিসার্চ প্রগ্রামের প্রধান রাইনা ম্যাকইনটায়ার ব্যাপক মাত্রায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়াকে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘চীনের অন্যান্য অংশে ওই ভাইরাস সংক্রমণ যত ছড়াবে বৈশ্বিক সংক্রমণের ঝুঁকিও ততই বাড়বে।’

এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং চীনা নববর্ষ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের এক বিশেষ বৈঠকে বলেছেন, করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং চীন মারাত্মক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে।

চীনের পত্রিকা পিপলস ডেইলির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এক হাজার ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট দ্বিতীয় নতুন একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সামাল দিতে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। হুবেই প্রদেশে এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞ সেনাদল পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে চীনজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শানডং প্রদেশ এবং তিয়ানজিন, বেইজিং ও শিয়ান শহর থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বন্য প্রাণী বিক্রির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর গতকাল অবরুদ্ধ উহান শহর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে নিতে ফ্লাইট পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। উহান শহরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেই শহর থেকে কাউকে বের হতে না দেওয়ায় বাংলাদেশিরা সেখানে আটকা পড়েছে।

রাজশাহী থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক রফিকুল ইসলামকে উহান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিকদার মোহাম্মদ ইলিয়াস জানিয়েছেন, তাঁরা সবাই করোনাভাইরাস আতঙ্কে আছেন।

উহান শহরে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষক ড. এনামুল হক বলেছেন, চীন সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, উহান থেকে পালিয়ে গেলে এই ভাইরাস আরো ছড়াতে পারে।

আরো খবর »