কুমারখালীতে সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ঘর ছাড়া ফল ব্যবসায়ী

Feature Image

লিপু খন্দকার ঃ উপজেলার মুল শহরের রেল স্টেশন চত্বরে ফল ব্যবসায়ী মৃত মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে বাবুল হোসেন বাবু সোনার বাংলা ভোগ্যপণ্য ও ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ থেকে চড়া সুদে ঋন নিয়ে সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ভিটা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী বাবুল জানায় ২/১০/১৮ সালে সমিতির সভাপতি তার পার্শ্ববর্তী ডিম ব্যবসায়ী সালামের ছেলে সাব্বিরের নিকট থেকে ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে ৫ লাখ টাকা ২ বছর মেয়াদে লাভসহ ৮ লাখ টাকা দেবার অঙ্গীকারে চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু সাব্বির ১ বছর ধরে তাকে ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দেবার একপর্যায়ে গন্ডগোল সৃষ্টি করে তার বসতবাড়ির ৫ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি খরচ তার নিকট থেকে নিয়েই ঘরবাড়ি সহ জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়। এবং পরবর্তীকালে সে কিছু মানুষের কাছে দেনা ছিল সেই টাকা সাব্বির পরিশোধ করে মোট ৫ লাখ টাকা পুরা করে। বাবুল জানায় প্রতিদিন ১৫০০ টাকা করে জমা দিলে ৩৩৮ দিনে ৫ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং বাড়ির দাম ৫ লাখ সব মিলিয়ে ইতিমধ্যে ১০ লাখ ৭ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও সাব্বির সমিতির বইয়ে ১৫০০ টাকার স্থলে শুধু ৫০০ টাকা জমা করে তার নিকট এখনো অনেক টাকা পাওনা দেখাচ্ছে। এবং সাব্বিরকে প্রতিদিন ১৫০০ টাকা দিতে গিয়ে ইতিমধ্যে ব্যবসার মুলধন শুন্যের কোঠায় পৌঁছে গেছে। যেকারনে বর্তমানে সে দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় আর কোন টাকা দিতে না পারায় সাব্বির তাকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

এ ব্যাপারে সোনার বাংলা ভোগ্যপণ্য ও ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি সাব্বির হোসেন জানায়, বাবুল তার সমিতির নিকট থেকে প্রথমে ৫ লাখ টাকা ঋন নিয়ে ঠিকমতো কিস্তি পরিশোধ না করায় তার বাড়ির জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়া হয়। পরবর্তীতে বাবুল তাকে অনুরোধ করে একমাত্র বসতবাড়ি হারিয়ে কোথায় থাকবে তখন সাব্বির তাকে মাসে ২ হাজার টাকা মাসিক ভাড়ার চুক্তিতে তাকে ঐ বাড়িতে থাকার অনুমতি দেয়। কিন্তু বাবুল ঠিকমতো বাড়ি ভাড়া কখনোই প্রদান করে নাই। এবং জমি রেজিস্ট্রি করে নেবার পর বাবুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পাওনাদার ঝামেলা সৃষ্টি করার কারনে তাকে পুনরায় ৫ লাখ টাকা ঋন দেয়া হয়। সে তার সমিতির বই দেখিয়ে বলে পরের বার বাবুল যে ঋন নিয়েছে সেই টাকারই ৩৩৮ দিনে ৫০০ টাকা হিসাবে সে ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা দিয়েছে।

তাহলে যে ব্যক্তি প্রথমবার ঋন নিয়ে কিস্তি দিতে না পারায় জমি নিয়ে পরিশোধ করতে হলো তাকে কেন পুনরায় ঋন দেয়া হলো এবং কিস্তি হিসাবে ১৫০০ টাকা প্রতিদিন নিয়ে বইয়ে কেন ৫০০ টাকা কিস্তি লেখা হলো এ বিষয় গুলো সে এড়িয়ে গিয়ে বলে এগুলো মিথ্যা কথা। এব্যাপারে সাব্বির এই প্রতিবেদককে মোবাইল ফোনে জিজ্ঞাসা করে বাবুল কি সাংবাদিকদের নিকট গিয়েছে হ্যাঁ সূচক জবাব দিলে সে বলে তার নিকট বাবুলের একাধিক ইসলামী ব্যাংকের চেক রয়েছে চেক ডিজঅনার করিয়ে সে বাবুলের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকার মামলা করবে বলে হুমকি দেয়।

এ ব্যাপারে সমবায় কর্মকর্তা আনিছুর রহমানকে তাদের দপ্তরের আওতাধীন সোনার বাংলা ভোগ্যপণ্য ও ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ যার রেজিষ্ট্রেশন নং ১২ তারিখ ৭/০৯/২০১৬ দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তিতে ঋন দিতে পারবে কিনা বা ঋনের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে বসত বাড়ি রেজিস্ট্রি করে নিতে পারবে কিনা বা অধিক লাভে ঋন প্রদান করতে পারবে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন ১ বছর মেয়াদে এবং ১৫% মুনাফায় ঋন প্রদান করতে পারবে। বাড়ির জমি রেজিস্ট্রি করে নেবার বিষয়ে বলেন ঋন খেলাপীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে কিন্তু সরাসরি বাড়ির জমি এভাবে রেজিস্ট্রি করে নেয়া যায়না। তিনি আরো বলেন বার্ষিক সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে সমিতি পরিচালনা করতে হবে। বাবুলের বিষয়ে তিনি বলেন বিষয়টি তদন্ত পূর্বক উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো খবর »