ভ্যাট বৃদ্ধির নামে দেশীয় বিড়ি শিল্প বন্ধের পাঁয়তারা করছে কুচক্রী মহল

Feature Image

বিড়ি ফ্যাক্টরী বন্ধ করে ফায়দা লুটতে চায় একটি কুচক্রিমহল। বর্তমানে মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে দেশে তান্ডব বয়ে যাচ্ছে এতে করে দেশের সাধারন শ্রমিক যারা দিন আনে দিন খায় তারা তাদের কাজের অভাবে খেতে পারছে না।
এদের মধ্যে বিড়ি শ্রমিকরা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। হাতে তৈরি বিড়ি ফ্যাক্টরী সরকারের ঘোষনার কারনে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

কিন্তুু হাতে তৈরি বিড়ি ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকার সুযোগে কিছু বিদেশী টোব্যাকো কোম্পানি চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা।

তারা পূর্ব থেকে সিগারেট মজুদ এবং যেহেতু মেশিনে তৈরি সে সুযোগে তারা তাদের উৎপাদন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, আর এদিকে বিড়ি ফ্যাক্টরী বন্ধ ও কাজের অভাবে হাতে তৈরি বিড়ি শ্রমিকরা মানবতার জীবন যাপন করছে।

বিড়ি শ্রমিক রহমান (৫৫) জানান, আমি ২০ বছর ধরে বিড়ি বানাই। আমার ৪ মেয়ে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে এবং ১ ছেলে সেও বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে আমাকে খেতে দেয়না। বিড়ি ফ্যাক্টরিতে কাজ করে কোনো রকম দিন পার করছি। কিন্তু এখন বিড়ি ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেওয়াতে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।

পাশে থাকা কবির হোসেন (৪৭) বলেন, আমার বিড়ি বানায় সংসার চালাতে হয়। আমার ২ ছেলে তাঁরা আমাকে খেতে দেয়না বিড়ি ফ্যাক্টরীতে কাজ করে কোনরকম দিন পার করি। এখন বন্ধ হয়ে যাওয়াতে দুইটা ডাল-ভাত খাওয়ার মত সাধ্য নাই।

এমনটিই পরিলক্ষিত হয়েছে চরঅধ্যুষিত কুষ্টিয়ার হোসেনাবাদ এবং ফিরিপনগর সহ দেশের উত্তর ও দক্ষিনাঞ্চলের এলাকাগুলোতে। কারন এখানে সব হাতে তৈরি বিড়ি ফ্যাক্টরী গুলো বন্ধ। বিষয়টি মানবতার সহিত দেখে শ্রমিকদের কাজের সুযোগ দানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি শ্রমিকরা জোর দাবি জানায়।

অন্যদিকে একটি কুচক্রী মহল আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে হাতে তৈরি বিড়ির উপর ট্যাক্স বৃদ্ধির পায়তারায় লিপ্ত হয়েছে, কিন্তুু এই বিড়ি শিল্পের সাথে লাখো শ্রমিক জড়িত, যদি বিড়ির উপর নতুন করে ট্যাক্স আরোপ হয় তাহলে মালিক পক্ষ এসব ফ্যাক্টরিতে সহজে চালাতে পারবে না, তখন এসব লাখো শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে।তাই এই লাখো মানুষের কর্মসংস্থান কথা চিন্তা এই কুচক্রিমহলকে প্রশয় না দেওয়া উচিত বলে মনে করেন বিড়ি শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা।

আরো খবর »