রাজশাহীতে সাংবাদিকের কাছে টাকা চেয়ে ফেঁশে যাচ্ছেন ওসি

Feature Image

রাজশাহী থেকে : রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক গণধ্বনি প্রতিদিনের সম্পাদক ইয়াকুব শিকদারের নামে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় শনিবার সকালে নগর পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ইয়াকুব শিকদার।
এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে নগরীর রাজপাড়া থানার কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম (কনস্টেবল নম্বর ৪৩৩) এই জিডি করেন। ডিজি নম্বর ২৮৭।


পত্রিকাটির সম্পাদক ইয়াকুব শিকদারের অভিযোগ, তার সাথে কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম অসৌজন্যমুলক ও অপেশাদার আচরণ করেছেন। কিন্তু প্রতিকার না করেই উল্টো সাধারণ ডায়েরী করিয়েছেন ওসি।


বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলছেন ইয়াকুব শিকদার। এনিয়ে শনিবার সকালে তিনি নগর পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত চান তিনি।
ভুক্তভোগী এই সাংবাদিকের ভাষ্য, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে তিনি থানায় সেকেন্ড অফিসার মোস্তাক আহম্মেদের কাছে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে থানার দায়িত্বরত সেন্ট্রি শহিদুল ইসলাম তার পথরোধ করেন। ওই সময় টাকা না পেলে যেতে দেয়া হবেনা বলে জানান। কিন্তু কনস্টেবলকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। এনিয়ে তার সাথে প্রকাশ্যে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন শহদিুল।


পরে সেকেন্ড অফিসারের কাছে ফিরে গিয়ে তিনি বিষয়টি জানান । তখনই সেকেন্ডি অফিসার এসে কনস্টেবলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কর্তব্যরত অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে ঘটনার দায় স্বীকার করেন কনস্টেবল শহিদুল। প্রতিকার পেতে বিষয়টি তখনই তিনি মোবাইলে আরএমপির মুখপাত্রকে জানান। বিষয়টি শীর্ষ পর্যায়ে জানাজানি হয়ায় ক্ষুদ্ধ হন ওসি। তিনি প্রতিকার না করেই পাঠিয়ে দেন। এর ঘন্টাখানিক পর তার বিরুদ্ধে থানায় জিডি নেয় পুলিশ। অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্তব্য করতে রাজি হননি কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম।


এদিকে, জিডির তদন্তভার দেয়া হয়েছে থানার উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলামকে। বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে তিনি নথিপত্র হাতে পেয়েছেন। খুব শিগগিরিই এর তদন্তকাজ শুরু করবেন। তার ভাষ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে যখন এই ঘটনা ঘটে, তিনি তখন থানায় ছিলেন। সামান্য ভুলবোঝাবুঝি থেকেই এমনটি ঘটেছে। এমন তুচ্ছ বিষয় সাধারণ ডায়েরি পর্যায়ে নেয়ার কারণ জানতে জানতে চাইলে জানা নেই দাবি করেন শরিফুল ইসলাম। একই সাথে নিয়ম মেনে তদন্তকাজ শেষ করারও কথা জানান।
এদিকে, অভিযোগ বিয়ষটি জানতে চাইলে থানার ওসি শাহাদাত হোসেন খান দাবি করেন, কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম নিজেই জিডি করেছেন। এনিয়ে তিনি কিছুই জানেননা। তবে বিধি মেনেই সেটির তদন্তভার দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠছে সেটি ভিত্তিহীন দাবি করেন ওসি।


জানতে চাইলে নগরীর বোয়ালিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সাজিদ হোসেন বলেন, সেদিনের ঘটনা কিংবা জিডির বিষয়টি ওসি নিজেই ভালো বলতে পারবেন। এর বাইয়ে এনিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।


সম্পাদকের লিখিত অভিযোগ পাবার কথা নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, ওই সাংবাদিক বৃহস্পতিবার দুপুরের তাকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তাকে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। তিনি শনিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এখন সেটি তদন্ত করে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি থানার বিষয়টি। থানা সেটির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। তবে এই জিডি নিয়ে ওই সাংবাদিক যেনো কোন ধরণের হয়রানির শিকার না হন সে দিকেও নজর রাখা হবে।

আরো খবর »