সংসদে যাঁদের যেতে মানা!

Feature Image

করোনার হানায় নাস্তানাবুদ গোটা বিশ্ব। মারাত্মক ছোঁয়াচে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে-দেশে নেওয়া হয়েছে নানা ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেদের মতো সতর্কতা অবলম্বন করেছে। জাতীয় সংসদও এর বাইরে নয়। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ৩৩ জন সংসদ সদস্যকে (এমপি) চলতি বাজেট অধিবেশনে যোগ না দিতে অনুরোধ করা হয়েছে, যাঁদের বেশির ভাগই প্রবীণ। এই অধিবেশনের আসনবিন্যাসও করা হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। এ অনুযায়ী প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৮৫ জন এমপি উপস্থিত থাকছেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় সংসদ সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সূত্র মতে, অনুরোধ জানানোর পরও অধিবেশন শুরুর দিন গত ১০ জুন সংসদে উপস্থিত হওয়ায় চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন দুজন এমপিকে ভর্ৎসনা করেন। তাঁরা হলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জামালপুরের সরকারদলীয় এমপি আবুল কালাম আজাদ ও রাজবাড়ীর কাজী কেরামত আলী। কেরামত আলীর স্ত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

সূত্র জানায়, অভিবেশনে যোগ না দিতে অনুরোধ জানানো ৩৩ এমপির তালিকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জেপির সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং কমপক্ষে দুজনের পরিবারের সদস্যরা করোনা পজিটিভ।

জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বিষয়টি স্বীকার করে গত শুক্রবার বলেন, ‘আমরা ৩৩ থেকে ৩৫ জনের একটি তালিকা করেছি। স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের চলতি অধিবেশনে না আসার জন্য অনুরোধ করেছি। এর মধ্যে কয়েকজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রয়েছেন, আবার কেউ কেউ সুস্থও হয়েছেন।’

সূত্র জানায়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের কার্যালয় এই ৩৩ এমপির তালিকা তৈরি করেছে। অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন তাঁদের ফোন করে সংসদ অধিবেশনে না আসার অনুরোধ করেন। তাঁদের বলা হয়, ‘আপনারা সংসদে এসে যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাহলে আমরা অভিভাবক হারাব।’ আর যেসব এমপির পরিবারের সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত তাঁদের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা আছে বলে তাঁদেরও না আসার অনুরোধ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও বীর বাহাদুর উশৈসিং, ইমাজউদ্দিন প্রামানিক, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, শেখ হেলাল উদ্দীন, মকবুল হোসেন, কাজী কেরামত আলী, আবুল কালাম আজাদ, মোছলেম উদ্দীন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, ফরিদুল হক খান, রনজিত কুমার রায়, মোহাম্মদ এবাদুল করিম, জিন্নাতুল বাকিয়া, শেখ এ্যানি রহমান প্রমুখ। বিএনপির উকিল আবদুস সাত্তার ভুঞাকেও নিষেধ করা হয়েছে। তালিকায় আছেন জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ ও রস্তম আলী ফরাজী, জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন ও তাঁর স্ত্রী লুৎফুন নেসা খান। এ ছাড়া আছেন শহীদুজ্জামান সরকার। অবশ্য করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি এরই মধ্যে সুস্থ হয়েছেন। জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত উত্তরাঞ্চলের একজন প্রবীণ সংসদ সদস্যও রয়েছেন তালিকায়।

অধিবেশনে যোগ না দেওয়ার অনুরোধ করা এমপিদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, যশোরের রনজিত কুমার রায়, জামালপুরের ফরিদুল হক খান, চট্টগ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও মোছলেম উদ্দীন আহমেদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ এবাদুল করিম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। গত শুক্রবার জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথমে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের কথা শোনা গেলেও পরে কভিড-১৯ পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার তিনি মারা গেছেন।

হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন জানান, নির্দেশনা রয়েছে তালিকার বাইরে থাকা নতুন করে যারা (এমপি) আক্রান্ত হবেন তাঁরা সংসদে আসবেন না। তিনি জানান, চলতি বাজেট অধিবেশনের আসনবিন্যাস সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে করা হয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৬০ জন এমপির উপস্থিতি নিশ্চিত করা। কারণ তা না হলে কোরাম পূর্ণ হয় না। এ জন্য অধিবেশনের আগের দিন তালিকা করে ৮০-৮৫ জন এমপিকে খুদেবার্তা দেওয়াসহ ফোন করা হয়। তালিকায় যাঁদের নাম থাকে কেবল তাঁরাই পরের দিনের অধিবেশনে যোগ দিতে পারেন।

জাতীয় সংসদের একটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি ১২ কার্যদিবসের বাজেট অধিবেশন শেষ হবে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে। আগামীকাল সোমবার সম্পূরক বাজেট এবং ৩০ জুন মূল বাজেট পেশ করা হবে।

আরো খবর »