গোয়েন্দাদের হাতে সেই ৪ কলগার্লের নাম ও ঠিকানা

Feature Image

ঢাকা : সুন্দরীদের দিয়ে কাজ বাগিয়ে নেয়া নতুন কিছু নয়। এটা আগেও চলছে । কারন সুন্দরীরা যা পারে তা একজন পুরুষ পারে না। এরবার আলোচনায় শাহেদের ৪ কলগার্ল। প্রতারণার ফাদে ফেলে এসব সুন্দরীরা কাজ বাগিয়ে দিত সাহেদকে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের বড় কর্তাদের মনোরঞ্জন করতে এসব কলগার্লদের পাঠাতেন তিনি। তাতেও কর্মকর্তারা ম্যানেজ না হলে কলগার্লদের সঙ্গে তাদের থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে পাঠাতেন। তাদের সমস্ত খরচ বহন করতেন শাহেদ। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে টেন্ডার, তদবির এবং বিভিন্ন কাজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে নিতেন।

সেই ৪ কলগার্লের নাম ও ঠিকানা এখন গোয়েন্দাদের হাতে। শাহেদ র‌্যাবের জালে আসার পরই তারা আত্মগোপনে চলে যায়। তার মধ্যে একজনকে সাময়িক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওই নারী তদন্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছে যে, সে নিজেও শাহেদের ব্ল্যাকমেইলের শিকার। তার খপ্পড়ে পড়ে তিনি তার জীবন ও যৌবন সব শেষ করেছেন। তিনিও শাহেদের বিচার চেয়েছেন। এছাড়াও প্রতারক শাহেদের চোরাই মোবাইল ফোনের ব্যবসার যোগসূত্র পেয়েছে তদন্তকারীরা। তিনি দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে চোরাই মোবাইল সেট ঢাকায় এনে ঢাকার বড় বড় শপিং মলে বাজারজাত করতেন। সেই মোবাইলগুলো যাতে শুল্ক কর্মকর্তারা জব্দ করতে না পারেন এজন্য কিছু অসাধু শুল্ক কর্মকর্তাদের অর্থের বিনিময়ে বাগে আনতেন তিনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতারক শাহেদ এখন ১০ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগ। মামলা তদন্তের মুখ্য সমন্বয়কারী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি (উত্তর) বদরুজ্জামান জিল্লু । ‘মামলাটির তদন্ত শুরু হয়েছে।

সূত্র জানায়, শাহেদের চারজন কলগার্লের মধ্যে তিনজনের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এখন গোয়েন্দাদের হাতে। নাম ও ঠিকানা নিয়ে একজনের বিষয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে। সূত্র জানায়, শাহেদের এক কলগার্ল হলেন, একজন উঠতি টিভি অভিনেত্রী। ২ বছর ধরে তার টিভি মিডিয়ায় পদচারণা। তিনি ল্যাক্স সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উঠে এসেছেন রূপালি টিভি পর্দায়। সরকারি এক অনুষ্ঠানে শাহেদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহেদ জানিয়েছেন। শাহেদের সঙ্গে তার সম্পর্ক করার ক্ষেত্রে টিভি মিডিয়ার সংগঠন ডিরেক্টর গিল্ডসের এক নেতার বড় ভূমিকা রয়েছে।

সূত্র জানায়, আরেক কলগার্ল হচ্ছেন ঢাকার একটি পাঁচ তারকার হোটেলের ড্যান্সার। হোটেলে পার্টিতে শাহেদের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। এরপর থেকেই ওই নারী শাহেদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এছাড়াও উত্তরা এলাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তার কলগার্ল ছিল। লাস্যময়ী এ সুন্দরী কলগার্ল শাহেদের সঙ্গে একাধিকবার নেপাল, ভারত ও থাইল্যান্ডেও গেছে বলে শাহেদ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে স্বীকার করেছেন।
সূত্র জানায়, তাদের প্রত্যেকের পেছনে শাহেদের মাসে ১ লাখ টাকা খরচ হতো। এছাড়াও চার কলগার্লদের মধ্যে ওই টিভি অভিনেত্রীকে একটি প্রাইভেটকারও গিফট করেছিলেন। সেই কারটি তিনি এখনো ব্যবহার করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের আগে তার দ্বিতীয় কলগার্লের সঙ্গে শাহেদের বনিবনা হচ্ছিল না। ওই কলগার্ল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি বড় টেন্ডার তাকে বাগিয়ে এনে দিয়েছিলেন। ওই টেন্ডার এনে দিতে পারলে তাকে মোটা অঙ্কের টাকা দেয়ার কথা ছিল শাহেদের। কিন্তু, তিনি পরে তার কথা রাখতে পারেননি। এতেই ওই কলগার্ল তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। হোটেলের ড্যান্সার ওই কলগার্ল তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন নিরাপত্তারক্ষী জানান, হাসপাতালে শাহেদের অফিসে একাধিক নারীর যাতায়াত ছিল। যাতায়াত ছিল সমাজের সকল পেশার প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের ।

আরো খবর »