কোরবানিতে আগ্রহ কম নগরবাসীর

Feature Image

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যে ঈদুল ফিতর উদ্যাপনে উৎসবের আমেজ ছিল না। গণপরিবহন বন্ধ এবং সরকারি বিধি-নিষেধ, আর্থিক কর্মকাণ্ড প্রায় বন্ধ থাকায় মানুষের আগ্রহেও ভাটা দেখা গেছে। ঈদের পর সাধারণ ছুটি প্রত্যাহার করে সরকার ‘সীমিত আকারে’ প্রায় সব কিছুই খুলে দিয়েছে। সে কারণে ঘটা করে ঈদুল আজহা উদ্যাপন করবেন এমন আশা করছিলেন নগরবাসী। কিন্তু চার কারণে তাঁদের মধ্যে কোরবানি দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হলো আর্থিক সংকট। এ ছাড়া পশুর হাটের অপ্রতুলতা এবং অনলাইনে কোরবানি প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত খরচও তাঁদের দুশ্চিন্তার কারণ। তার ওপর বাড়ির আঙিনায় কোরবানি দিতে বাড়িওয়ালাদের বিধি-নিষেধ এবং ধর্মীয় বিধানমতে কোরবানির মাংস বণ্টন নিয়েও চিন্তিত নগরবাসী। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, পাঁচটি অস্থায়ী পশুর হাট চূড়ান্ত করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। করোনা মোকাবেলায় গঠিত সরকারের কেন্দ্রীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে মূল শহরের বাইরে রাখা হয়েছে হাটগুলো। একইসংখ্যক অস্থায়ী হাট রেখেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে এরই মধ্যে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন সংস্থাটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। এর বাইরে কোরবানির পশু বেচাকেনা সহজতর করতে ‘ডিএনসিসি ডিজিটাল হাট’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম করা হয়েছে। রয়েছে গাবতলীতে রাজধানীর স্থায়ী পশুর হাট।

অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে বেশির ভাগ ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব চলছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান গণহারে কর্মী ছাঁটাই করেছে।

কোনো কোনো কম্পানি বেতন কমিয়েছে। ফলে গতবারের মতো এবার আর কোরবানি দেওয়া সম্ভব হবে না।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকার ১৬ নম্বর রোডের ১৮ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা মো. বদিউজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতি বছর ২৫ হাজার টাকা কোরবানির জন্য বরাদ্দ রাখি। কিন্তু এ বছর তা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া কাছাকাছি হাট না থাকার কারণে এ বছর কোরবানি না দেওয়ার পক্ষে আমি। অনলাইনে পশু কেনার প্রতি তেমন আগ্রহ নেই আমার।’

ডিএনসিসির ডিজিটাল হাট থেকে পশু কেনার পর কোরবানি শেষে মাংস প্রক্রিয়াজাত করে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোরবানি দিতে চাইলে গুরুর দামের ২৩ শতাংশ অর্থ দিতে হবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। এ ছাড়া আরো দেড় হাজার টাকা দিতে হবে মাংস বাসায় পৌঁছানোর জন্য। অর্থাৎ এক লাখ টাকার গরু কিনে এসব প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য অতিরিক্ত ২৪ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হবে সেবাগ্রহীতাকে। এই খরচ মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।

এ ছাড়া করোনার কারণে আঙিনায় কোরবানি না দিতে উৎসাহিত করছেন বাড়ির মালিকরা। করোনার কারণে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী মাংস বিতরণ নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন কেউ কেউ। ফলে ঢাকায় কোরবানি না দেওয়ার পক্ষে তাঁরা। এ ছাড়া অন্য বছর বাইরে থেকে রাজধানীতে কসাই আসত। কিন্তু এ বছর তারা আসবে কি না তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

বারিধারা এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম তারিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ধর্মীয় বিধান মোতাবেক আমরা কোরবানি করি। কিন্তু করোনার মধ্যে আত্মীয়-স্বজন ও গরিব মানুষের মধ্যে মাংস বণ্টন করা নিয়ে খুব ঝামেলা হবে। ফলে কোরবানি না দেওয়ার পক্ষে আমি।’

রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিনও বলছিলেন, ‘২০ বছর ধরে ঢাকার বাসায় কোরবানি করে আসছি। এ বছর আর্থিক সংকট রয়েছে। এ ছাড়া ফ্ল্যাট মালিক সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে আঙিনায় কোরবানি না করার বিষয়ে। তাই এ বছর কোরবানি না করার সম্ভাবনা বেশি।’

উল্লেখ্য, গত ঈদুল আজহায় রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় পাঁচ লাখের বেশি পশু কোরবানি হয়েছিল।

আরো খবর »