টাকার জন্য মৃত রোগীর হাত বাঁধা : পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

Feature Image

টাকার জন্য রাজধানীর মালিবাগের প্রশান্তি হাসপাতালে বিছানার সাথে মৃত রোগীর হাত বেধেঁ রাখার অভিযোগ মামলা হিসেবে নিতে শাহজাহানপুর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই মামলা তদন্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পিবিআইকে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে এ ঘটনা তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ আদেশ দেন। টাকার জন্য বিছানার সাথে মৃত রোগীর হাত বেধেঁ রাখার অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনে এ আদেশ দেন আদালত। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন লিমন, অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ ও খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

গত ২৪ জুন দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় “করোনায় মৃত, মালিবাগে টাকার জন্য বেঁধে রাখা হলো লাশের হাত” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এ রিট আবেদন করা হয়। মৃত রোগীর ভাই জসিম উদ্দিন রুবেল গত ৭ জুলাই এ রিট আবেদন করেন। ওই রিট আবেদনে মৃত ব্যক্তির তিন সন্তানের জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া ও ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়।

রিট আবেদনে স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) পরিচালক, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি), শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রশান্তি হাসপাতালের পরিচালক, আইসিইউর দ্বায়িত্বে থাকা ডা. আব্দুল আলিম ও তার ব্যবস্থাপককে বিবাদী করা হয়েছে।

দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় ‘করোনায় মৃত, মালিবাগে টাকার জন্য বেঁধে রাখা হলো লাশের হাত’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর ওই রোগীকে ‘কথিত’ আইসিইউতে নেওয়া হয়। এরপর ক্রমাগত টাকার চাপ দেওয়া হয় রোগীর পরিবারকে। রোগী মারা যান, মৃত্যুর পরেও বেডের সঙ্গে মৃতের হাত বাঁধা ছিল। এমনই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর মালিবাগের প্রশান্তি হাসপাতালে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, করোনা আক্রান্ত হয়ে ১৪ জুন রাজধানীর মালিবাগের প্রশান্তি হাসপাতালে ভর্তি হন নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কর্মকর্তা ডা. মহিন উদ্দীন পারভেজ। ১৮ জুন ভোরে মারা যান ডা. মহিন। স্বজনদের কাছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাসপাতাল খরচ ও প্রায় ৬০ হাজার টাকা ওষুধের দাম দিয়ে লাশ নিয়ে ওইদিন সন্ধ্যায় ছাড়া পান।

আরো খবর »