ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, ৩০ মামলার আসামির জামিন আবেদন

Feature Image

বহুল আলোচিত জাহালম কাণ্ডের ঘটনায় ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎকারীদের অন্যতম ব্যক্তি ৩০ মামলার আসামি মানিকগঞ্জের আমিনুল হক সরদার হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছেন।

আমিনুলের পক্ষে দুটি মামলায় জামিন আবেদন দাখিল করেছেন অ্যাডভোকেট রোকেয়া আকতার। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আবেদন করা হয়েছে। এই জামিন আবেদন দুটিতে ওই আদালতে আজ মঙ্গলবার আদেশের জন্য রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১২ সালের ১০ এপ্রিল ধানমন্ডি থানায় মামলা করে দুদক। এ মামলায় ২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পরবর্তীতে অধিকতর তদন্ত করে ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তদন্তকালে গ্রেপ্তার হওয়া মানিকগঞ্জের টেটামার বড়াইদিয়ারা গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম ওরফে সফদার হোসেন ওরফে সাগর আহম্মদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

ওই জবানবন্দিতে কিভাবে সে নিজের নাম গোপন করে সাগর নামধারী হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংকে হিসাব খুলে তার বর্ণনা দিয়েছে। তাতে আমিনুল হক সরদারসহ কয়েকজন কিভাবে সাগরকে দিয়ে দেশের ১০টি ব্যাংকে হিসাব খুলে ৫ কোটি টাকা এবং আরো দুজনের নামে হিসাব খুলে আরো ১৪/১৫ কোটি টাকা তুলে আত্মসাৎ করার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

এরই সূত্র ধরে নজরুল ইসলামের আত্মীয় মানিকগঞ্জের উত্তরকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত শামসুল হক বাচ্চুর ছেলে আমিনুল হক সরদারকে আসামি করে দুদক অভিযোগপত্র দেয়। ওই টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। এরপর গতবছর পহেলা এপ্রিল ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আমিনুল। সেই থেকে সে কারাবন্দি।

এ অবস্থায় গত ২০ জানুয়ারি ও ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে দেয়। এ অবস্থায় ধানমন্ডি ও রামপুরা থানার মামলায় জামিন আবেদন করা হয়েছে।

‘৩৩ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিরাপরাধ জাহালমকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এই প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনার পর আদালত গতবছর ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট টাঙ্গাইলের পাটকল শ্রমিক জাহালমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন এবং তাকে কারামুক্তির নির্দেশ দেন।

এ নির্দেশে সেদিন রাতেই জাহালমকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাহালমকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রশ্নে রুল জারি করেন। এছাড়া জাহালমকে আসামি করার পেছনে দুদকের ১৪ কর্মকর্তার অবহেলাকে দায়ী করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দেয় দুদকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি। পাশাপাশি ব্যাংক কর্মকর্তাদেরও দায়ী করা হয়।

এছাড়াও জাহালমকে আসামি করার পেছনে দুদক ও বিভিন্ন ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত তারা যেন চাকরির টাকা-পয়সা নিয়ে পালাতে না পারে সেজন্য তাদের ওপর নজরদারি করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরো খবর »