জাহালম কাণ্ড: ব্যাংকের টাকা আত্মসাতে জামিন মেলেনি আসামি আমিনুলের

Feature Image

ব্যাংকের যে প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতি মামলায় ঠাকুরগাঁওয়ের সালেকের বদলে টাঙ্গাইলের জাহালমকে আটক করা হয়, ওই মামলায় টাকা আত্মসাতকারীদের অন্যতম ব্যক্তি ৩০ মামলার আসামি মানিকগঞ্জের আমিনুল হক সরদারকে জামিন দেননি হাইকোর্ট।

তবে তার জামিন আবেদনের ওপম শুনানি মুলতবি রাখা হয়েছে। নিয়মিত আদালত খোলা পর্যন্ত মুলতবির এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এ আদেশ দেন।

আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক ও অ্যাডভোকেট রোকেয়া আকতার। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১২ সালের ১০ এপ্রিল ধানমন্ডি থানায় মামলা করে দুদক। ওই মামলায় ২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে অধিকতর তদন্ত করে ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তদন্তকালে গ্রেপ্তার মানিকগঞ্জের টেটামার বড়াইদিয়ারা গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম ওরফে সফদার হোসেন ওরফে সাগর আহম্মদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার জবানবন্দিতে ১০টি ব্যাংক থেকে ২০ কোটি টাকা আত্মসাত করার বর্ণনা দেওয়া হয়।

এরই সূত্র ধরে মানিকগঞ্জের উত্তরকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত শামসুল হক বাচ্চুর ছেলে আমিনুল হক সরদারকে আসামি করে দুদক অভিযোগপত্র দেয়। ওই টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। এরপর গতবছর পহেলা এপ্রিল ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আমিনুল। সেই থেকে তিনি কারাবন্দি। এ অবস্থায় ধানমন্ডি ও রামপুরা থানার মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে গত ২০ জানুয়ারি ও ১০ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন। এরপর হাইকোর্টে আবেদন করেন আমিনুল। তাঁর আবেদনে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে ১৪টি মামলায় জামিনে রয়েছেন।

‘৩৩ মামলায় ভুল আসামি জেলে’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিরাপরাধ জাহালমকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এই প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনার পর আদালত গতবছর ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট টাঙ্গাইলের পাটকল শ্রমিক জাহালমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন এবং তাকে কারামুক্তির নির্দেশ দেন।

নির্দেশে সেদিন রাতেই জাহালমকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় জাহালমকে ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের জারি করা রুল যেকোনোদিন রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়েছে।

আরো খবর »