কৌশলে রোগীর পকেট কাটাই ছিল উদ্দেশ্য

Feature Image

মাদক কারবারের পাশাপাশি নকল ওষুধের কারবারও করতেন তিনি। এমন তথ্য পেয়ে তাঁর বিষয়ে খোঁজ নিতে শুরু করেছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যেই দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ কামিয়ে নিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের টার্গেট করেছিলেন শাহাবুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমডি ফয়সাল আল ইসলাম। এই টাকা কামাতে তাঁর কোনো বাছবিচার ছিল না। রোগীদের সেবা দেওয়ার পরিবর্তে হাসপাতালটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ভুয়া বিলের মাধ্যমে বাণিজ্য করা। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত টেস্ট করিয়ে, প্রয়োজন ছাড়াও রোগীদের আইসিইউ, সিসিইউ কেবিনে রেখে হাতিয়ে নেওয়া হতো অতিরিক্ত বিল। করোনা নেগেটিভ রোগীদেরও ভুয়া পজিটিভ রিপোর্ট দিয়ে ভর্তি করা হতো ওই হাসপাতালে। আরো তথ্য জানতে করোনা জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ফয়সাল আল ইসলামসহ তিনজনকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম আশেক ইমামের আদালত এ আদেশ দেন।

গ্রেপ্তারের পর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের আগে এই তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদকারী র‌্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডা. হাসনাত এমডি ফয়সালের যত দুষ্কর্মের সহযোগী। যোগসাজশে তাঁরা চিকিৎসার নামে প্রতারণা করেছেন মানুষের সঙ্গে। চোরাচালানের মাধ্যমে চীন থেকে র‌্যাপিড কিট আনার মতো অপকর্ম করেছেন তাঁরা। আবার অনুমোদনহীন র‌্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহারের মাধ্যমে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়া হাসপাতালের মূল সার্ভার থেকে দুর্নীতির অনেক তথ্য মুছে ফেলেছেন তাঁরা। তবে র‌্যাব প্রযুক্তির সহায়তায় ওই সব তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা করছে।

আরো জানা গেছে, হাসপাতালটির এমডি ফয়সাল ও তাঁর সহযোগীরা মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধেও জড়িত। এরই মধ্যে তদন্তে এসব আলামত পাওয়া যাচ্ছে। আরো তথ্য সংগ্রহের পর মানি লন্ডারিং আইনেও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল বিকেল থেকেই রিমান্ডে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদকারী এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রথম দফা জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা স্বীকার করেছেন যে অনুমোদনহীন র‌্যাপিড টেস্টের মাধ্যমে দুর্নীতি করেছেন তাঁরা। করোনাভাইরাস নেগেটিভ রোগীদের পজিটিভ দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রেখেছেন। রোগীদের আইসিইউয়ে রেখে তাদের স্বজনদের কাছ থেকে প্রচুর বিল আদায় করেছেন তাঁরা। অনুমোদনহীন বিভিন্ন ওষুধ চোরাপথে আমদানি করেছেন। করোনা অ্যান্টিবডি পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই পজিটিভ রিপোর্ট দিয়ে রোগী ভর্তি এবং ভুয়া বিল ভাউচার করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালদের মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে আনা হয়েছে এ হাসপাতালে।

জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা করোনা রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন। হাসপাতালটি সিলগালা করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের ওপর নির্ভর করছে সিলগালার বিষয়টি।

ফয়সাল আল ইসলাম করোনায় সংক্রমিত না হয়েও করোনার ভান করেছিলেন জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ধরা পড়ার পর তিনি নিজে এমনটি দাবি করেছিলেন। পরে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করে নেগেটিভ এসেছে।

আরো খবর »