স্বাস্থ্য’র ডিজি হিসেবে কয়েকটি নাম আলোচনায়, বিশেষজ্ঞরা কাঠামো সংস্কার চান!

Feature Image

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি আবুল কালাম আজাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। তবে সূত্রটি জানায়, ডিজি পদত্যাগপত্র দেওয়ার পর সেটা গৃহীত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। ২০১৯ সালের এপ্রিলে আবুল কালাম আজাদের মহাপরিচালক পদের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর তিনি দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান। আগামী বছর এপ্রিলে বাড়তি মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

বেশি উচ্চারিত পাঁচ-ছয়জনের নাম!
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি পদে কাকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে সেটা নিয়ে গতকাল বুধবার দিনভর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে জোরালো আলোচনা চলে। বেশি উচ্চারিত হয়েছে পাঁচ-ছয়জনের নাম। তাঁদের মধ্যে আছেন বর্তমান স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন, স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. আবু ইউসুফ ফকির, ডা. আবুল হাশেম খান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শামিম আহমেদ, আইইসিডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

এদিকে গ্রেডেশন ঝামেলার কারণে বর্তমানে যাঁরা অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বে আছেন তাঁদেরকে মহাপরিচালক করা নিয়ে জটিলতা রয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়। বিশেষ করে যাঁরা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন না বা নেই তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মহাপরিচালক হওয়ার সরাসরি যেমন সুযোগ নেই, তেমনি মহাপরিচালক হতে হলে তাঁদের ৩ নম্বর গ্রেড থেকে সরাসরি ১ নম্বর গ্রেডে এনে মহাপরিচালক করতে হবে। যা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন ক্যাডারের মধ্যে আগে থেকেই নানা রকম প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

গতকাল মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে গুঞ্জন শোনা যায় যে চিকিৎসকদের পরিবর্তে প্রশাসন ক্যাডারের কাউকে মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে এ নিয়ে আগে থেকেই চিকিৎসকদের মধ্যে জোরালো আপত্তি রয়েছে। বরং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার যেসব পদে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা রয়েছেন তাঁদের নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।

একাধিক সূত্র জানায়, ভেতরে ভেতরে চিকিৎসক সংগঠনগুলো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে যাতে চিকিৎসকদের বাইরে কাউকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হলে তারা আন্দোলনে নেমে যেতে পারে।

কাঠামোগত সংস্কারের তাগিদ
বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, পদত্যাগ করলে বা সরিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁরা বলছেন, ব্যক্তি পরিবর্তনের পাশাপাশি কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তা না হলে কখনোই দুর্নীতি, অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা বন্ধ হবে না। এর আগেও এমন পরিবর্তন করে সুফল মেলেনি। বরং দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা আরো বেড়েছে। মন্ত্রী-সচিব বা মহাপরিচালকের নিচের পদে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যেও শুদ্ধি অভিযান জরুরি বলে মনে করছেন অনেকে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ ই মাহবুব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পদত্যাগ বা অপসারণ সাময়িক সমাধান হলেও যতক্ষণ পর্যন্ত দুর্নীতির মূল উত্পাটন করা না যাবে ততক্ষণ কোনো সুফল আসবে না। এ জন্য কাঠামোগত সংস্কার জরুরি, তাতে দুর্নীতির সুযোগ আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যাবে। কেউ চাইলেই দুর্নীতি করতে পারবে না।’

আরো খবর »