জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৫ পাম্প চালুই করতে পারেনি ওয়াসা

Feature Image

উজানের ঢল আর মৌসুমি বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল প্রথম প্লাবিত হয় গত মাসের শেষের দিকে। এরপর দ্বিতীয় দফায় বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ অঞ্চল ডুবতে শুরু করে ১১ জুলাই। মৌসুমি বৃষ্টি আর উজানের ঢলের খবর জানা ছিল প্রায় সবারই। কিন্তু আগাম প্রস্তুতি নেয়নি রাজধানীর কোনো সংস্থা। ফলে ঢাকার বৃষ্টির পানি গতকাল বুধবার পর্যন্ত নিষ্কাশন করতে পারেনি তারা। মূল সড়কের পানি সরানো সম্ভব হলেও নগরীর পাড়া-মহল্লায় জমে যাওয়া পানি বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিষ্কাশন করা যায়নি।

এদিকে টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে হাঁসফাঁস অবস্থা রাজধানীবাসীর। কোমরপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়েছে এলাকায়। জল-কাদায় চলাচল করতে গিয়ে প্রতিবারের মতো নগরবাসীর অভিযোগের আঙুল এবারও উঠেছে সিটি করপোরেশন এবং ওয়াসার দিকে।

জানা গেছে, ঢাকা এবং দেশের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে—এমন পূর্বাভাস দিয়েছিল জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সম্বয়কের দপ্তর।

ঢাকা শহরের নর্দমা এবং খাল দিয়ে সর্বোচ্চ ৪০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি প্রবাহিত হতে পারে। কিন্তু গত সোম ও মঙ্গলবার ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল বুধবার ঢাকায় আরো ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে সরু নর্দমা ও ভরাট খাল দিয়ে ওই পানি প্রবাহিত হতে পারেনি। প্রথম দিনের বৃষ্টির পর তড়িঘড়ি করে চারটি স্থায়ী স্টর্ম পানির পাম্প চালু করে ঢাকা ওয়াসা। এ ছাড়া আরো ১৫টি অস্থায়ী পানির পাম্প বসানোর কথা থাকলেও প্রথম দিন তা চালুই করতে পারেনি ওয়াসা। এদিকে রাজধানীতে এই সময় শতাধিক রাস্তার খনন ও মেরামতের কাজ করছে বিভিন্ন সেবা সংস্থা। ফলে এসব রাস্তার বালু ও কংক্রিট পড়ে নর্দমার ছিদ্র বন্ধ হয়ে গেছে। তাই দ্রুত নর্দমা দিয়ে পানি খালে পৌঁছাতে পারেনি। টানা দুই দিনের বৃষ্টির পানি জমা ছিল শহরে। তৃতীয় দিনের ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টির পানি বিভিন্ন অলিগলি ও নিচু এলাকায় ঢুকে ভোগান্তি আরো বাড়িয়েছে। এই জরুরি অবস্থায় পানি নিষ্কাশনের জন্য তেমন কিছুই করতে পারেনি রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় বন্যার পূর্বাভাস দেয় না আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে উজানের পানির ঢল এবং মৌসুমি বৃষ্টির প্রবণতা দেখে সেবা সংস্থাগুলোর আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। এ বছর এই আগাম প্রস্তুতির যথেষ্ট অভাব ছিল। ফলে জরুরি অবস্থায় পানি নিষ্কাশনের জন্য সমন্বিত কাজ করা যায়নি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকার পানি নিষ্কাশনের অবকাঠামো দুর্বল। এটা নতুন কিছু নয়। এখন নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় স্লুইস গেট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে পানি সরানো কঠিন হচ্ছে। তাই আগাম প্রস্তুতিটা জরুরি ছিল।’

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পানি সরানো যাচ্ছে না। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য নদী খনন জরুরি। আমাদের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু স্লুইস গেট বন্ধ থাকার কারণে পানি নিষ্কাশন করা যায়নি। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চিন্তা-ভাবনা করছে।’

আরো খবর »