দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণে বিলম্ব

Feature Image

দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের ঘুনধুম পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন কাজের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। আর অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে ২৬.৯৮ শতাংশ। সিঙ্গল লাইন ডুয়াল গেজ ট্র্যাক স্থাপনের এই কাজ ২০২২ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা। তবে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকা ও নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদারদের কাছে জমি হস্তান্তর করতে না পারায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া ও প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারমূলক (ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত) প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বনভূমি ডি-রিজার্ভ ও গাছপালা কাটার অনুমতি পেতে দীর্ঘ সময়, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানে দীর্ঘ সময় লাগছে। পাশাপাশি পাওয়ার গ্রিড কম্পানি (পিজিসিবি), বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) কর্তৃক প্রকল্প এলাকা থেকে পোল/টাওয়ার অপসারণে বিলম্ব, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জমি হস্তান্তরে বিলম্ব, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রলম্বিত বর্ষা মৌসুম এবং করোনাভাইরাস মহামারিকে প্রধান অন্তরায় মনে করা হচ্ছে।

প্রকল্পের পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় এক মাস নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। এখন পুরোদমে কাজ চলছে। বর্তমান পর্যন্ত প্রকল্পের ৪০ শতাংশ ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন করা শেষ হয়েছে।’

সূত্র জানায়, মূলত ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডরে সংযোগ স্থাপন, পর্যটন শহর কক্সবাজারকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থার প্রবর্তন এবং সহজে ও কম খরচে মাছ, লবণ, রাবারের কাঁচামাল এবং বনজ ও কৃষিজ দ্রব পরিবহনের উদ্দেশ্যে এই প্রকল্প নেওয়া হয়।

জানা যায়, প্রথম দফায় রেল ট্র্যাক নির্মিত হবে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত। রামু থেকে ঘুনধুম পর্যন্ত রেলপথ হবে দ্বিতীয় ধাপে। সরকারের নিজস্ব এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থে প্রকল্পটির ব্যয় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। মেয়াদ ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন। ২০১৬ সালের ২৭ এপ্রিল ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে এটি অন্তর্ভুক্ত হয়।

সূত্র জানায়, করোনার কারণে প্রকল্পের নির্মাণকাজ কিছুদিন বন্ধ ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখন আবার কাজ শুরু হয়েছে। ওভারহেড ট্রান্সমিশন টাওয়ারের প্রয়োজনীয় স্থানান্তরকাজ শেষ না হওয়ায় ভৌতকাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তরা ঠিকাদারদের কাজে বাধা প্রদান করছে। কৃষি বিভাগের জমির কারণেও কাজে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন ঠিকাদাররা।

সূত্র জানায়, এই রেলপথের ৩৯টি ব্রিজের মধ্যে ৩৬টির নির্মাণকাজ চলমান। ১৪৭টি কালভার্টের মধ্যে ৩৮টির কাজ শেষ হয়েছে, ৪৫টির কাজ চলছে। মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে আংশিক ব্যালাস্ট ও চায়না থেকে প্রয়োজনীয় রেল সংগ্রহ করা হয়েছে। ৩৩ হাজার ৫০০ স্লিপার সরবরাহ করা হয়েছে। আর রি-সেটলমেন্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দুই হাজার ৩৯৪ জনকে পুনর্বাসন সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।

আরো খবর »