১২ নাইজেরিয়ানকে নিয়ে এক নারীর ঠগবাজির ব্যবসা

Feature Image

কখনো রাহাত আরা খানম, আবার কখনো ফারজানা মহিউদ্দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করা ত্রিশোর্ধ্ব এই নারীর নেতৃত্বেই চলছিল রাজধানীর বুকে জোচ্চুরির খেলা। সঙ্গী হিসেবে ছিলেন আরো ১২ নাইজেরিয়ান পুরুষ।

রাজধানীর পল্লবীতে বিদেশিদের নিয়ে খুলে বসেছিলেন রাজকীয় অফিস। সিআইডি গত মঙ্গলবার তাঁদের সেই ‘পাকা ধানে মই দিল’। গত দুই মাসে তাঁরা মানুষের সঙ্গে ঠগবাজি করে পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।

নাইজেরিয়ার ১২ নাগরিক হলেন নান্দিকা ক্লিনেন্ট চেকেঙ্গো, ক্লিটাস অ্যাচোনা, ওনেকুলভে থিমিটি চিনঙ্গে, একিনি উইজডম, চিগোজি, ইভান্ডে গ্রেব্রিল ওভিনা, চেলেসটিন পেট্রিক ওভিয়াজুলো, মরডি নামডি কলনিস, অরদু চোকুদ সামি, দুভোকং সোমাইনা, জিরিন প্রেসাস একিনি ও নউগক উইজডম চিকাডো।

গতকাল দুপুরে সিআইডি দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার জানান, প্রতারিত হয়ে এক ব্যক্তি সিআইডিতে অভিযোগ করেন। এ সূত্র ধরেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা অভিনব কায়দায় ওই ব্যক্তির সঙ্গে ফেসবুকে বন্ধুত্ব করেন। একপর্যায়ে ক্যাথরিন কুলেন সুফিয়া নামের একটি মেসেঞ্জার আইডি থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টসহ পার্সেল উপহার দেওয়ার প্রস্তাব দেন তাঁকে। পরবর্তী সময়ে এসব মূল্যবান সামগ্রীর এয়ারলাইনস বুকিংয়ের প্রমাণ পাঠান। এরপর এসব গিফট বক্সে কয়েক মিলিয়ন ডলারের মূল্যবান সামগ্রী রয়েছে বলে তাঁরা তাঁকে জানান। তাঁকে চট্টগ্রাম কাস্টমস গুদাম থেকে রিসিভ করতে বলা হয়।

এ সময় রাহাত আরা খানম নিজেকে কাস্টমস কমিশনার পরিচয় দিয়ে ভিকটিমকে মূল্যবান গিফটসহ শুল্ক বাবদ চার লাখ ২৫ হাজার টাকা দিতে কয়েকটি ব্যাংকের হিসাব নম্বর দেন। গিফটটি গ্রহণ না করলে আইনি জটিলতার ভয়ও দেখান রাহাত আরা খানম। এই অবস্থায় ভিকটিম তাঁদের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিন লাখ ৭৩ হাজার টাকা পাঠান। একইভাবে এই প্রতারকরা পরস্পরের যোগসাজশে শতাধিক ভিকটিমের কাছ থেকে পাঁচ-ছয় কোটি টাকা দুই মাসের মধ্যে হাতিয়ে নেন।

আরো খবর »