‘পশুর হাট’ চলছে তিন বিভাগের ১১ জেলায়

Feature Image

করোনাভাইরাসে প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকারের পক্ষ থেকে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে হাটে না গিয়ে বিকল্প উপায়ে কোরবানির পশু কিনতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি এই নীতির সঙ্গে মিল রেখে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঘরে বসে অনলাইনে ‘পশুর হাট’ নামে পশু বেচা-কেনার মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে পশু ক্রয়-বিক্রয়ে বাড়তি টাকা খরচ করতে হবে না।

অ্যাপটি সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় ক্রেতা এবং বিক্রেতা কারোরই প্রতারণা শিকার হতে হবে না। এতে ঈদ পরবর্তী সময়েও বছরব্যাপী পশু কেনা-বেচা করা যাবে। এই অ্যাপে জেলা-উপজেলা প্রশাসনের প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তারা স্থানীয় খামারীদের যুক্ত করেন। তাই সুস্থ-সবল পশু পেতে ক্রেতাদের আস্থার জায়গা হতে পারে পশুর হাট।

‘জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলি, পশুর হাট মোবাইলে অ্যাপে পশু ক্রয়-বিক্রয় করি’ স্লোগান নিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তরুণ অফিসারদের উদ্যোগটিকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছে। এরই মধ্যে তিনটি বিভাগের ১১টি জেলার জেলা প্রশাসন এই অ্যাপের সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের যুক্ত করার মধ্য দিয়ে বড় আকারে পশু কেনা-বেচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

‘পশুর হাট’-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক সিরাজগঞ্জের সহকারী কমিশনার ও কম্পিউটার প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সহজেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছি। এতে করোনায় সময়ে সামাজিক দূরত্বের ঝুকিঁমুক্ত উপায়ে পশু কেনা-বেচা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে বেশ কয়েকটি জেলা যুক্ত হয়েছে। সামনে আরো অনেক যুক্ত হবেন বলে আশা করছি। মাসুদুর রহমান জানান, ‘পশুর হাট’ অ্যাপটিতে ৫ ধরণের ব্যবহারকারী রয়েছেন। প্রথমত- অ্যাপটি পরিচালনা করার জন্য অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ‘সুপার এডমিন’ রোল এর ব্যবহারকারীরা থাকবেন। যারা জেলা এডমিন রোল এর ব্যবহারকারী তৈরি করাসহ অ্যাপ এর যাবতীয় সেটিংসগুলো মনিটর করতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, এই অ্যাপটি বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকে ব্যবহার করা যাবে। সেক্ষেত্রে সুপার এডমিন প্রতিটি জেলায় একজন করে জেলা প্রশাসন এডমিন তৈরি করে দেবেন। জেলা প্রশাসন এডমিন তার অ্যাকাউন্ট হতে লাইভস্টক এডমিন রোল এর ব্যবহারকারী তৈরি করে দিতে পারবেন এবং তাদের প্রদত্ত তথ্য যাচাই বাছাই করতে পারবেন। এ ছাড়া বিক্রেতা এবং পশু সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য রিপোর্ট আকারে দেখতে পারবেন।

তৃতীয়ত, লাইভস্টক এডমিন এডমিন সকল পশুর তথ্য যাচাই করবেন। তথ্যগুলো ঠিক আছে কিনা সেটা দেখবেন। তিনি মূলত উপজেলা ভিত্তিক কাজ করবেন। কোনো বিক্রেতা যদি রেজিস্ট্রেশন করেন তাহলে প্রদত্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে সেটি লাইভস্টক এডমিনের কাছে পেন্ডিং অবস্থায় থাকবে। লাইভস্টক এডমিন যখন তথ্যের সকল সত্যতা যাচাই করে বিক্রেতাকে অ্যাপ্রুভ করে দেবেন তখন বিক্রেতা তার মাধ্যমে অ্যাপে সংযুক্ত হয়ে যাবেন।

চতুর্থত, যেকোনো লাইভস্টক এডমিন তার অ্যাকাউন্ট থেকে বিক্রেতাকে যুক্ত করতে পারবেন। মূলত প্রান্তিক পর্যায়ের খামারীরা বিক্রেতা হিসেবে যুক্ত হবেন। তবে কোনো বিক্রেতা নিজে অ্যাকাউন্ট খুললে লাইভস্টক এডমিন অ্যাপ্রুভ করে দিলে তার অ্যাকাউন্টটি সচল হবে। বিক্রেতা তার অ্যাকাউন্টে লগইন করার পর প্রাপ্ত ড্যাশবোর্ড থেকে পশুর ছবি, ভিডিও, ওজন, গায়ের রং, প্রজাতি, বয়স, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ইত্যাদির বিস্তারিত তথ্য দিয়ে পশুর বর্ণনা পোস্ট করবেন। পরবর্তীতে কোনো পশু বিক্রি হলে সেটিও ড্যাশবোর্ড থেকে চিহ্নিত করে দিবেন।

সবশেষে অ্যাপটির মূল ব্যবহারকারী হবেন ক্রেতাগণ। এক্ষেত্রে ক্রেতাকে অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এবং তার ইংরেজিতে প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারটি অ্যাপে ইউজার নেম হিসেবে ব্যবহার হবে। ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার পর তার জেলার বিভিন্ন খামারীর পশু বিক্রি করার পোস্ট দেখতে পারবেন। কোনো একটি পোস্টের লিংক এ ক্লিক করলে সেখান থেকে ঐ পশুর ছবি ভিডিওসহ বিস্তারিত তথ্য দেখতে পাবেন এবং বিক্রেতার সাথে যোগাযোগের অপশন পাবেন। সেই অপশন থেকে ক্রেতা বিক্রেতার সাথে সরাসরি ফোনে কথা বলতে পারবেন অথবা অ্যাপের মাধ্যমে মন্তব্য করেও বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। পরবর্তীতে বিক্রেতা আগ্রহী হলে ক্রেতার সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে পশুটি ক্রেতার কাছে সরবরাহের ব্যবস্থা করবেন।

পশুর হাট-এর সুবিধা

অ্যাপটি বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকে ব্যবহার করা যাবে। অ্যান্ড্রয়েড চালিত যেকোনো ডিভাইস থেকে প্লে-স্টোর থেকে ‘পশুর হাট’ নামক অ্যাপটি ইন্সটল করে অথবা www.poshurhaat.com এই ওয়েবসাইটটি ব্রাউজ করে যেকোনো ডিভাইস থেকে ব্যবহার করতে পারবেন। পশুর হাট অ্যাপটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্রেতা এবং বিক্রেতাকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। যেকোনো প্রাকার মধ্যসত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এড়িয়ে সরাসরি ক্রেতাকে বিক্রেতার সাথে সংযোগ করে দেয়াই আমাদের এই অ্যাপের মূল উদ্দেশ্য। এটি সারা দেশের ৬৪ টি জেলাতে একযোগে পরিচালনা করা সম্ভব।

বর্তমানে রাজশাহী বিভাগের, বিভাগীয় কমিশন অফিসের উদ্যোগে রাজশাহীর ৮টি জেলাতে অ্যাপটি চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলা এই অ্যাপটিতে যুক্ত আছে। পশুর হাট অ্যাপটি শুধুমাত্র কোরবানির ঈদে ব্যবহারের জন্যই নয়, এই অ্যাপটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন এটি সারা বছরই আমাদের দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিরা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে থেকে ব্যবহার করতে পারেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্ভাবনী এই উদ্যোগটির পরিকল্পনায় আছেন জেলার ডিসি ড. ফারুক আহাম্মদ ও এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম রওশন কবীর। ডিজাইনার আইতুল আব্দুল্লাহ ও ডেভেলপার হাসানুর রহমান হাসান।

আরো খবর »