‘আমি অপরাধী সবার টাকা ফেরত দেব’

Feature Image

করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) নমুনা পরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়াসহ বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে করা পাঁচ মামলায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে ৩৮ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন ঢাকা ও সাতক্ষীরার আদালত। একই সঙ্গে সাহেদের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজকে তিন মামলায় ২১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার আদালত। গতকাল রবিবার এ আদেশ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সাহেদকে র‌্যাবের মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মাসুদকে কারা, কখন জিজ্ঞাসাবাদ করবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় গতকাল পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়নি। তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

সাহেদ আদালতে প্রতারণায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘যাঁরা আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, ব্যবসা চালু হলে আস্তে আস্তে সবার টাকা ফেরত দিয়ে দেব।’ তিনি রিমান্ড শুনানি চলাকালে বিচারককে বলেন, ‘স্যার, আমি তো অপরাধ করেছি। আমি ও মাসুদ দুজনই অপরাধী। আমার বিরুদ্ধে মামলার রিমান্ড শুনানি ঈদের পর হলে ভালো হয়। কয়েক দিন ধরে রিমান্ডে আছি। আমি অসুস্থ।’

র‌্যাবের হেফাজতে প্রথম ১০ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল সকালে সাহেদকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ তিনটি এবং উত্তরা পূর্ব থানার পুলিশ একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। তদন্ত কর্মকর্তারা চার মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালত সাত দিন করে ২৮ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। দুই থানার তিন মামলায় মাসুদের ৩০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে একই আদালত সাত দিন করে ২১ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

একই সময়ে সাতক্ষীরার ভার্চুয়াল আদালতে দেবহাটা থানার অস্ত্র আইনের মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন র‌্যাব-৬-এর তদন্ত কর্মকর্তা। দেবহাটা আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার রায় ১০ দিনের রিমান্ডই মঞ্জুর করেন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘সাতক্ষীরার মামলায় সাহেদকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র রাখাসহ চিকিৎসায় বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগ আমরা খতিয়ে দেখছি।’

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদের পর আমরা সাহেদকে আমাদের তিন মামলায় রিমান্ডে নিয়ে আসব। তখনই মাসুদকে আনা হবে কি না সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আজ (গতকাল) তাঁকে রিমান্ডে আনা হয়নি। মাসুদ সাতক্ষীরার অস্ত্র আইনের মামলার আসামি নন, তাই তিনি এখন জেলহাজতে আছেন।’

র‌্যাব সূত্র জানায়, সাহেদের বিরুদ্ধে ১৬০টি অভিযোগ এবং ৪৮টি মামলার নথিপত্র পেয়েছে র‌্যাব। এর মধ্যে কয়েকটি অভিযোগ চিকিৎসায় জালিয়াতির। অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অস্ত্র দিয়ে প্রভাব খাটানোর বিষয়টিও যাচাই করছেন তদন্তকারীরা। জিজ্ঞাসাবাদে সাহেদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করছেন।

গতকাল আদালত প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান বলেন, সাহেদ সব অন্যায় ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। যাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, তাঁদের টাকা-পয়সা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন সাহেদ।

গত ১৬ জুলাই ঢাকা মহানগর হাকিম মো. জসিমের আদালত সাহেদ ও মাসুদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

৬ জুলাই উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানের সময় গা ঢাকা দেওয়ার পর ১৫ জুলাই সকালে সাতক্ষীরার দেবহাটা থেকে বোরকা পরা অবস্থায় অস্ত্রসহ সাহেদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এই সময় তাঁর কাছ থেকে একটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় গাজীপুরের কাপাসিয়ার একটি বাড়ি থেকে মাসুদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

এদিকে মেট্রো রেল প্রকল্পে কর্মরত ৭৬ কর্মীকে করোনার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে গত শুক্রবার রাতে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তারকৃত রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান পুলিশের হেফাজতে ১০ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

আরো খবর »