অন্তঃসত্ত্বা ও শিশুদের টাকা চলে যাচ্ছে রোহিঙ্গা শিবিরে

Feature Image

দেশের হতদরিদ্র গর্ভবতী মায়েরা স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চার কিস্তিতে চার হাজার টাকা করে পেতেন। আবার হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া শিশুটি পুষ্টিকর খাবারের জন্য টানা দুই বছর প্রতি মাসে ৭০০ টাকা করে পেত। সরকারি কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে এ দুই খাতের টাকাই চলে যাচ্ছে কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পেছনে। এমন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে ইনকাম সাপোর্ট প্রগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট (আইএসপিপি) শিরোনামের একটি প্রকল্পে।

পরিকল্পনা কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে দারিদ্র্যের হার এখনো অন্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি। এসব অঞ্চলের নারী ও শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হারও বেশি। এমন বাস্তবতায় উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী এবং মধ্যাঞ্চলের জামালপুর, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার ৪৩টি উপজেলায় ছয় লাখ গর্ভবতী নারী বাছাই করে তাঁদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য নগদ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের এপ্রিলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আইএসপিপি শিরোনামে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় দুই হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণ হিসেবে দুই হাজার ৩৪০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় বিশ্বব্যাংক। বাকি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়ার কথা। স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০১৮ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার কথা ছিল।

সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সম্মতিতে ছয় লাখ গর্ভবতী নারী বাছাই করতে দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস)। কিন্তু আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও বিবিএসের সেই তালিকা পাওয়া যায়নি। ততক্ষণে প্রকল্পের মেয়াদ শেষের দিকে। প্রথম দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত করা হয়। ওদিকে বিকল্প হিসেবে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে দুটি কমিটি করা হয়। সেই কমিটিও এখন পর্যন্ত ছয় লাখ গর্ভবতী নারীর তালিকা করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত মাত্র তিন লাখ ৯৭ হাজার গর্ভবতী নারীর তালিকা করা সম্ভব হয়েছে।

তালিকা তৈরি না হওয়ায় বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্প থেকে পাঁচ কোটি ডলার (৪২৫ কোটি টাকা) রোহিঙ্গাদের অবকাঠামো উন্নয়নে খরচের সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্বব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের কারণে এখন পুনরায় প্রকল্পটি সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের দুই হাজার ৩৪০ কোটি টাকা থেকে কমে এক হাজার ৯৬২ টাকায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে প্রকল্পের মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সংশোধিত প্রকল্পটি ফের অনুমোদনের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার একনেক সভায় উত্থাপন করা হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক শেখ মোহাম্মদ কাবেদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দায়িত্ব দেওয়ার আড়াই বছর পর বিবিএস জানিয়েছে যে তারা তালিকাটি করতে পারেনি। এরপর ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি করে তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় আরো কিছু সময় চলে যায়। সে কারণে বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্প থেকে কিছু টাকা অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।’

ছয় বছরে প্রকল্পের অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুই হাজার ৩৭৮ কোটি টাকার মধ্যে আমরা এখন পর্যন্ত ৪৬৫ কোটি টাকা খরচ করতে সক্ষম হয়েছি। আর্থিক অগ্রগতি মোট অনুমোদিত প্রকল্পের ১৯ শতাংশ। আর প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ২২.৫ শতাংশ। ছয় লাখ উপকারভোগীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩০টি উপজেলার তিন লাখ ৯৭ হাজার ৫৬ জন বাছাই করেছি।’

আরো খবর »