যত্রতত্র সমবায় সমিতির রেজিস্ট্রেশন দেয়া হবে না

Feature Image

সারাদেশে এক লাখ ১১ হাজার রেজিস্ট্রার্ড সমবায় সমিতি আছে। এসব সমবায় সমিতির ওপর আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। কারণ আমরা শুধু রেজিস্ট্রেশন দিই। সমবায় সমিতিগুলোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা আমাদের হাতে নেই। যে কারণে অনেক সমবায় সমিতি অনিয়ম-দুর্নীতি করে মানুষের টাকা-পয়সা আত্মসাৎ করে থাকে।

সোমবার কালের কণ্ঠকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমবায় সমিতিগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য বিদ্যমান সমবায় আইনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আইনের বাস্তবতার প্রেক্ষিতে নতুন বিধিমালা তৈরি করা হয়েছে। দুইএকদিনের মধ্যেই এর গেজেট প্রকাশিত হবে।

তিনি বলেন, নতুন বিধিমালায় এক বছরের মধ্যে কোন সমবায় সমিতির কার্যক্রম না থাকলে তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে। যত্রতত্র সমবায় সমিতির রেজিস্ট্রেশন দেয়া হবে না। রেজিস্ট্রেশন নিতে হলে সংশ্লিষ্ট সমিতির নামে ব্যাংকে একাউন্ট করা লাগবে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের সুপারিশ লাগবে।

স্বপন ভট্রাচার্য্য বলেন, সমবায় সমিতিগুলোর অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য বিদ্যমান আইনে কিছু ক্লজ সংযোজন করা হচ্ছে। তাতে তারা সমবায় আয়-ব্যয়ের রেজুলেশন করে স্থানায়ী সমবায় অফিসে জমা দিতে বাধ্য থাকবে।

উল্লেখ্য, সমবায় সমিতির নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এরমধ্যে আইসিএল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ফারইস্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, নওরোজ কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের জমানো টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সমবায় সমিতির প্রতারণায় অসংখ্য মানুষ সহায়-সম্বল হারিয়ে পথে বসেছে।

সূত্র মতে, ১৯৮৪ সালের ‘দ্য কো-অপারেটিভ সোসাইটিজ অর্ডিনেন্স’ বাতিল করে ২০০১ সালে প্রথম সমবায় সমিতি আইন প্রণীত হয়। পরে এটি ২০০২ সালে এবং সর্বশেষ ২০১৩ সালে সংশোধিত হয়। এছাড়া ২০০৪ সালে সমবায় সমিতি বিধিমালা প্রণীত হয়।

আরো খবর »