খেলা শুরুর সরকারি ঘোষণা

Feature Image

দেশে সীমিত পরিসরে শুরু করা যাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও খেলাধুলা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গাইডলাইন পাওয়ার পর গতকাল এ সিদ্ধান্ত জানায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। সোমবার এক সভা শেষে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো ক্রীড়াঙ্গনকেও সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে করোনাভাইরাস বিদ্যমান থাকায় ফেডারেশনগুলোকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানান তিনি।

খেলা ও প্রশিক্ষণ শুরু করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের গাইডলাইনে ১০টি নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। ততে দর্শক মাঠে ফেরানোর ব্যাপারেও সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সরকারি নির্দেশনায় ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় খেলাধুলা। সরকার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়ায় এতদিন খেলাধুলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে ঈদের আগে থেকে একক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে বেশ কয়েকটি ফেডারেশন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) গাইডলাইন মেনে দেশের পাঁচটি ভেন্যুতে অনুশীলন করছেন ক্রিকেটাররা। জাতীয় যুব ক্রিকেট দলের আনুষ্ঠানিক ক্যাম্প শুরু হবে ২০ আগস্ট থেকে কেন্দ্রীয় বিকেএসপিতে। গাজীপুরে ক্যাম্প শুরু হয়েছে জাতীয় ফুটবল দলের। অনূর্ধ্ব-২১ হকি দলের ক্যাম্প শুরু হয়েছে ঢাকার মওলানা ভাসানী জাতীয় স্টেডিয়ামে। ঢাকার বাইরে একক অনুশীলন করছেন ভারোত্তোলকরা। সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে।

সীমিত পরিসরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন,’করোনাভাইরাসের বিস্তারের কারণে বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও খেলাধুলা স্থগিত রাখা হয়েছিল। দেশে সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে খেলা শুরুর ব্যাপারে একটি গাইডলাইন চাওয়া হয়েছিল। সেটা পাওয়ায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা খেলা কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হবে। যেহেতু এখনও দেশে কভিড বিদ্যমান আছে এবং আমি আশা করব, সব নির্দেশনা মেনে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেওয়া হবে।’

স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে যে ১০টি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, তাতে খেলার মাঠ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে জীবাণুমুক্ত রাখতে মহামারি প্রতিরোধ সরঞ্জাম যুক্ত করা, তদারকি ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থী, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্ট সদস্যদের নিয়মিত স্বাস্থ্য ও কভিড-১৯ পরীক্ষা করতে হবে। প্রশিক্ষণ ক্যাম্প স্বাস্থ্যসম্মত রাখা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, ধূমপান থেকে বিরত থাকা, পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিতে হবে খেলোয়াড়দের। প্রশিক্ষণ ও খেলা চলাকালে ব্যক্তিগত সামগ্রী ব্যবহার ও বোতলজাত পানি পান করতে হবে। এক মিটার দূরত্ব রেখে স্টেডিয়ামে দর্শক প্রবেশ ও আসন বিন্যাস করা ও দর্শকদের তাপমাত্র পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। কারও শরীরের তাপমাত্রা ৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট ধরা পড়লে নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠানোর সুপারিশ আছে। খেলোয়াড় ও ম্যানেজমেন্ট সদস্যদের কারও করোনা উপসর্গ দেখা দিলে আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। স্টেডিয়াম জীবাণুমুক্ত করার পাশাপাশি দর্শক সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে সংশ্নিষ্ট ফেডারেশনকে।

সরকার থেকে খেলাধুলা শুরু করার সবুজ সংকেত দেওয়া হলেও দেশের কভিড-১৯ পরিস্থিতি নিম্নমুখী না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব নাও হতে পারে। ঘরোয়া লিগ আয়োজন হবে ব্যয়বহুল। সেক্ষেত্রে অনেকটা বাধ্য হয়েই সীমিত পরিসরে খেলা চালাতে হবে ফেডারেশনগুলোকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ছাড়া খুব কম ফেডারেশনই বয়সভিত্তিক খেলা চালাতে পারবে। তবে একক গেমস অ্যাথলেটিক্স, জিমন্যাস্টিক্স, সাঁতার, ভারোত্তোলন, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, শুটিং, আরচারি খুব সহজেই আয়োজন করা সম্ভব।

আরো খবর »