লিসবনে আগুনে লড়াই

Feature Image

নিরপেক্ষ ভেন্যু, থাকবে না কোনো দর্শক, তবু লড়াইটা যে হবে হাড্ডাহাড্ডি- সেটা আগে থেকেই বলা যায়। একে তো নেই সেকেন্ড টাইম সুযোগ, তার ওপর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে ওঠার দৌড়। তাতে উত্তাপটাও যেন আকাশসম! আর এই উত্তাপ মাথায় নিয়েই আজ রাত ১টায় লিসবনের এস্তাদিও দ্য লুজে মুখোমুখি হবে বিশ্বের দুই ফেভারিট ক্লাব বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখ।

আক্রমণ বনাম আক্রমণ

পুরো মৌসুমে বার্সার ঠিক উল্টো পথেই হেঁটেছে বায়ার্ন মিউনিথ। দু’দল দুই লিগে হলেও তাদের সময়টা গেছে দুই রাস্তা দিয়ে। যেখানে দারুণ ছন্দে থাকা বায়ার্ন জিতে নিয়েছে বুন্দেসলিগার মুকুট, সেখানে গড়পড়তা পারফর্ম করা বার্সা হারিয়েছে লা লিগার শিরোপা। তবে ট্রফি হাতছাড়া হলেও এমন কিছু ম্যাচ ছিল যেগুলো বার্সার জন্য হতে পারে প্রেরণার। বিশেষ করে ওই ম্যাচগুলোতে কাতালানদের আক্রমণভাগ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ ছিল না। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে। স্প্যানিশ লিগে শেষে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে যে ম্যাচটা জিতেছিল বার্সা- এককথায় অসাধারণ। লুইস সুয়ারেজ, লিওনেল মেসি আর অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যানের ত্রিমুখী আক্রমণে প্রতিপক্ষ পুরো কাত। ঠিক এইখানটায় বার্সা তৃপ্তির ঢেঁকুর গিলতে পারে। তবে প্রতিপক্ষ যখন বায়ার্ন তখন লড়াই এই আক্রমণভাগেই হবে। কেননা তাদের আছে রবার্ট লেভানডস্কি, থমাস মুলারদের মতো গতিময় তারকা।

দু’দলের একদেশি রক্ষী

গোলকিপার- একটা ম্যাচের আনসাং হিরো। যারা গোল করেন তাদের নিয়ে দিন শেষে কত গল্প, কত বিশেষণ, কত রেকর্ড লেখা হয়। কিন্তু এমন অনেক ম্যাচই আছে, যেখানে শুধু গোলদাতা নন, গোলপোস্টের প্রহরী গোলকিপারও ম্যাচের নায়ক বনে যান। এই ম্যাচে তেমনি দু’জন গোলরক্ষককে দেখবে ফুটবলবিশ্ব। একপ্রান্তে টের স্টেগান, অন্যপ্রান্তে ম্যানুয়েল নুয়্যার। জার্মানি ম্যাচ হলে দু’জনই থাকতেন এক ছাতার নিচে। কিন্তু এই ম্যাচ তারা একে অন্যর শত্রু।
একাদশ

দু’দলের একাদশেই আসতে পারে কিছু পরিবর্তন। তবে বায়ার্ন হয়তো উইনিং কম্বিনেশন নাও ভাঙতে পারে। অনুমিতভাবে চোটের কারণে এই ম্যাচে দেখা যাবে না বার্সা ডিফেন্ডার স্যামুয়েল উমতিতিকে। ডেম্বেলে ফিরলেও শুরুর একাদশে তার থাকাটা অনিশ্চিত। আর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরেছেন ভিদাল ও বুসকেটস। লেভানডস্কি, মুলারের সঙ্গে সার্জ নাব্রিকে নিয়ে আক্রমণভাগ সাজাতে পারেন বাভারিয়ানরা। আর রক্ষণে কিমিচ, বোয়েটাংই হতে পারে বার্সার জন্য বড় বাধা।

শক্তি-দুর্বলতা

দু’দলকে এক পাল্লায় রাখলে খুব বেশি তফাত দেখা যাবে না। হয়তো সেটা হতে পারে উনিশ-বিশ। তবে ব্যবধানের ঘরটা ছোট হলেও কয়েকটি ক্ষেত্রে কিন্তু দুই দলের যেমন ভিন্ন একটা শক্তি রয়েছে, আবার দুর্বলতাও দেখা যায়। ফুটবলবোদ্ধাদের বিশ্নেষণে প্রায় সময় উঠে আসে সেসব চিত্র। বার্সা আর বায়ার্নের মধ্যে সূক্ষ্ণ আরেকটা পার্থক্য হলো খেলার ধরন। বার্সা যেখানে ছোট ছোট পাসে আক্রমণ সাজায়, বায়ার্ন সেখানে গতি আর কাউন্টার অ্যাটাকে বেশি ভয় ধরায়। বলা যায়, বায়ার্নের শক্তিটা এখানে।

আবার রক্ষণভাগে দু’দলই প্রায় সমান। কিন্তু বার্সার রক্ষণে ফাঁকফোকরটা বেশিই পায় প্রতিপক্ষ। এটা তাদের দুর্বলতা নাকি অন্য কিছু, উত্তরটা ঠিকঠাক বলা মুশকিল। অতীত পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, এমন বহু ম্যাচে বার্সা এগিয়ে থেকে আবার পিছিয়ে পড়ে। কেবল পিছিয়ে নয়, অনেকটা সময় ছন্দে থাকার পর অগোছালো রক্ষণের কারণে জয়ের বন্দের আসার আগেই হতাশার সাগরে ডোবে। বায়ার্ন বোধ হয় বার্সার এই দিকটায় বেশি নজর দেবে, সুযোগ খুঁজবে রক্ষণ ভাঙার। তা ছাড়া বায়ার্নের গতিময় আক্রমণকে রুখে দিতে বার্সাও হয়তো ভিন্ন কোনো কৌশল বের করতে চাইবে।

আরো খবর »