‘জিয়া খালেদা ও তারেককে নিয়ে গল্পকাহিনি তৈরি করছে সরকার’

Feature Image

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের ঘটনায় জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জড়ানো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র, যে চক্রান্ত, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত তারই একটা অংশ। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বারবার এ দেশে সত্যিকার অর্থেই যাঁরা মুক্তিযোদ্ধা, যাঁরা দেশকে স্বাধীন করতে চেয়েছেন, যাঁরা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন, যাঁরা নতজানু পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাস করেন না, তাদের ওপরই এসব আঘাত এসেছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলানগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ মোনাজাত শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, যেহেতু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছিলেন, যেহেতু তিনি এ দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেহেতু এ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে সবচেয়ে প্রাধান্য দিয়ে দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য কাজ শুরু করেছিলেন, সে জন্য তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সে কারণে আজকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে, একটা কনসারটেড ওয়েতে একটা প্রচারণা-প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে যে শহীদ জিয়ার চরিত্র নিয়ে- অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধে তাঁর যে ভূমিকা, সেটিকে খাটো করে দেখানোর জন্য এবং তাঁকে এই ১৫ আগস্টের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য।

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বারবার বলেছি, এটা একটা ষড়যন্ত্র। সেই ষড়যন্ত্রটা প্রমাণিত হয়েছে। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। বিচারে আসামিদের ফাঁসির রায় হয়েছে। এখানে আবার নতুন করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম জাড়ানোর চেষ্টাই হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপচেষ্টা এবং এটা এ দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের চিন্তা-চেতনাকে অবমাননা বলে আমি মনে করি। ২১ আগস্টের ঘটনার সঙ্গে দেশনেত্রীকে জড়ানোর যে অপচেষ্টা, সেটাও তারই একটা অংশ।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জনাব তারেক রহমান- এ দেশের স্বাধীনতার পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন। আজকে যেহেতু সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, উপনিবিশবাদের বিরুদ্ধে, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান, সে কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করে অমূলকভাবে বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে এসব গল্পকাহিনি তৈরি করছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আরো খবর »