সিনেমা হল বাঁচাতে তহবিল গঠনের নির্দেশ

Feature Image

সিনেমা হল বাঁচাতে মালিকরা চাইলে সরকার তাঁদের ঋণ দিয়ে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করবে। এ জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সারদের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি কিভাবে দেওয়া যায়, তার উপায় বের করতে বলেছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

একনেক বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সিনেমা হল মালিকরা কেউ আসেন না, কেউ ভাড়া দিয়ে গেছেন। কেউ বিক্রি করে দিয়েছেন। কেউ বহুতল ভবনও করছেন। সিনেমা হল মালিকরা সবাই মিলে যদি ঋণ চান, তাহলে তা দেওয়া হবে। হল মালিকরা যদি সমঝোতা করতে চান, হল চালাতে চান, তাঁরা তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘একটা বিশেষ তহবিল করে যদি তাঁদের সহযোগিতা করা যায়, সিনেমা হলগুলো এভাবে পড়ে আছে। তাঁরা যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে তাঁদের আমরা সহযোগিতা করব।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন হল মালিকরা। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বাংলাদেশ প্রদর্শক সমিতির সাবেক সভাপতি মিয়া আলাউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আশা করছি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দ্রুত কার্যকর হবে। দেশের হল মালিকদের অবস্থা খুব নাজুক। এই শিল্প বাঁচাতে হলে অবশ্যই সরকারি সাহায্য লাগবে। নইলে ভবিষ্যতে আর হল থাকবে বলে মনে হয় না।’

ঢাকার মধুমিতা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে স্বাগত জানাই। এখন এই আর্থিক সুবিধা বা ঋণ কিভাবে দেওয়া হবে, কাদের দেওয়া হবে, এসবের জন্য একটা কমিটি দরকার।’

এদিকে গ্রাফিকস, ওয়েব ডিজাইন, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, স্মার্টফোন অ্যাপ, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট করে যাঁরা নিজেদের মুক্ত পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলেছেন, তাঁদের জন্য সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানিয়েছেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ফ্রিল্যান্সারদের পেশাকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। একনেক বৈঠকে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন স্টোর স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাঁরা ফ্রিল্যান্সিং করেন তাঁরা কেরানি বা অন্য সরকারি চাকরিজীবীদের তুলনায় অনেক বেশি টাকা আয় করেন। কিন্তু বিয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের পছন্দ করা হয় না। অভিভাবকরা মেয়েদের ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে বিয়ে দিতে আগ্রহী নন। বরং ওই কেরানিরাই বেশি অগ্রাধিকার পান। এ জন্য ফ্রিল্যান্সারদের সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় কী ধরনের স্বীকৃতি দেওয়া যায়, সেটি ভাবতে হবে। প্রয়োজনে কোনো সনদ দেওয়া যায় কি না, সেটি ভাবতে হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে কী করা যায় তার উপায় বের করতে বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলককে দায়িত্ব দিয়েছেন।

একনেকে ২,৫৭০ কোটি টাকার পাঁচ প্রকল্প অনুমোদন
এদিকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে এক হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে এক হাজার দুই কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার তহবিল থেকে ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

আরো খবর »