সব চললেও বন্ধ উবার-পাঠাও বাইক, গণপরিবহনে দুই নীতি!

Feature Image

রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ রাজধানীর বাসগুলোও চলছে অনেকটা স্বাভাবিক সময়ের মতো। ব্যক্তিগত মোটরবাইকেও দুই আরোহীর দেখা মিলছে হরহামেশা। অথচ রাইড শেয়ারিং বাইক সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে পাঠাও, সহজের মতো দেশি কম্পানিগুলো পথে বসতে চলেছে। এ পটভূমিতে গণপরিবহন নিয়ে দুই নীতিতে চলার অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিষেধাজ্ঞায় রাইড শেয়ারিংয়ের বাইক বন্ধ থাকলেও অবৈধ উপায়ে চুক্তিভিত্তিক ভাড়ায় চলছে অনেক মোটরসাইকেল। এতে একদিকে বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের, অন্যদিকে বেশি টাকায় চুক্তিতে চলার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে চালকদের।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ২৬ মার্চ থেকে গণপরিবহনের সঙ্গে রাইড শেয়ারিং সেবা বন্ধেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে গত ৩১ মে থেকে লেগুনা, বাসসহ অন্যান্য গণপরিবহন চালু হলেও বন্ধ রাখা হয়েছে রাইড শেয়ারিং বাইক সার্ভিস।

রাইড শেয়ারিং উদ্যোক্তারা বলছেন, নগরবাসীর ভোগান্তি, বাইকচালকদের আবেদন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচানোর দাবি—কোনোটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে না বিআরটিএ। তাদের অপেক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশের। অথচ মন্ত্রণালয় থেকেই বলা হচ্ছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিআরটিএর। রাইড শেয়ারিং উদ্যোক্তারা বলছেন, বিশ্বের অনেক দেশে এখন ব্যক্তিগত গাড়িতে বাণিজ্যিক যাত্রী পরিবহন (রাইড শেয়ারিং) বন্ধ নেই।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালুর অনুমতির পর গত জুন মাস থেকে রাইড শেয়ারিং কম্পানিগুলো একাধিকবার বিআরটিএকে অনুরোধ জানিয়েও সাড়া পায়নি। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক রাইড শেয়ারিং কম্পানি উবারের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে।

বিআরটিএতে দেওয়া আবেদনে রাইড শেয়ারিং কম্পানিগুলো বলেছে, স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সাধারণ গণপরিবহনে চড়তে যে ঝুঁকি আছে রাইড শেয়ারিংয়ে তা অনেক কম। এমনিতেই চালকদের কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হয়। করোনা পরিস্থিতিতে রাইড শেয়ারিং কম্পনিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ রাইড শেয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন (বারসা) একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করেছে। এতে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে চালকদের কঠোর নির্দেশনা পালন করতে হবে।

পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মোহাম্মদ ইলিয়াস কালের কণ্ঠকে বলেন, রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে বাসস্ট্যান্ড ও বাসের ভেতরের ভিড় সহজেই এড়ানো যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাইডলাইন অনুসারে প্রচুর বায়ু চলাচলের সুযোগ থাকার কারণে চার চাকা ও মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং তুলনামূলক নিরাপদ।

গণপরিবহন চালুর শুরুতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হলেও এখন তা অনেক ঢিলেঢালা হয়ে পড়েছে। বেশি যাত্রী নিচ্ছে বাসগুলো। এরপর ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। গত শনিবার সকালে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে বাসের অপেক্ষায় থাকা আনিসুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাসে নিয়ম মানা হয় না, যাত্রী না পেলে স্বাস্থ্যবিধি মানে। যাত্রী পেলে যত ইচ্ছে তোলে।’ তিনি বলেন, ‘মোটরসাইকেল অ্যাপে চলে না। এখন তারা সিএনজির মতো ভাড়া চায়, যাওয়া যায় না। ঝুঁকি নিয়ে বাসে চলতে হচ্ছে।’ অ্যাপ ছাড়া মোটরসাইকেলে ছিনতাই-রাহাজানির ভয়ও আছে বলে মনে করেন তিনি।

রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে অনেক মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তারাই মূলত রাইড শেয়ারিংয়ের চালক। অ্যাপ বন্ধ থাকায় চুক্তিতে চলছে, ভাড়াও নিচ্ছে বেশি। রাইডচালক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের চলাচল কম, ট্রিপও কম, বেশি ভাড়া না নিলে পোষায় না।’ তাঁর মতে, অ্যাপ চালু থাকলে অনেক ট্রিপ পাওয়া যায়, আবার বোনাসটোনাস মিলে পুষিয়ে যায়।

বিআরটিএতে রাইড শেয়ারিংয়ের বিষয়টি দেখেন ইঞ্জিনিয়ারিং উইংয়ের পরিচালক লোকমান হোসেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশ আছে। তাই রাইড শেয়ারিং বন্ধ রাখা হয়েছে।’

অবশ্য গত ৩ আগস্ট জারি করা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় রাইড শেয়ারিংয়ের বিষয়ে কিছু বলা নেই।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (আরবান ট্রান্সপোর্ট) নীলিমা আখতার বলেন, ‘রাইড শেয়ারিংয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত বিআরটিএ দেবে। মন্ত্রণালয় থেকে এসংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয় না।’

বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে রাইড শেয়ারিং বন্ধ রাখা হয়েছে। ওখান থেকে নির্দেশনা না এলে আমাদের কিছু করার নেই।’ অন্য গণপরিবহনে সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না জানালে তিনি বলেন, ‘যারা নিয়ম মানছে না তাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

আরো খবর »