গণমাধ্যমের গলা টিপে পাপ ঢাকতে সরকার ব্যস্ত : রিজভী

Feature Image

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রতিনিয়ত এই গণবিরোধী সরকার এমন এমন আইন করছে যাতে কোনোভাবে যেন বিরোধীকণ্ঠ বাতাসের মধ্যে ভেসে না যায়। গত সোমবার তারা জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যমে নীতিমালা করে তা আইন করার জন্য অনুমোদন দিয়েছে। অর্থাৎ টেলিভিশন থাকবে, কিন্তু তার যদি অনলাইন ভার্সন বা নিউজ পোর্টাল থাকে তাহলে তার জন্য আলাদা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এটা একটা কণ্ঠরোধ। দেশের গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে আওয়ামী সরকার চেতনা সন্ত্রাস, লুটেরা সন্ত্রাস ও পাচার সন্ত্রাসের পাপ ঢাকতে উঠে পড়ে লেগেছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, পত্রিকাগুলোরও তাই। পত্রিকাগুলোতে যেসব খবর ছাপা হচ্ছে, তার অনলাইন ভার্সনে ভিন্ন কথা থাকলে পরে তার জন্যও আলাদা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরকম কালাকানুনের বন্ধনের মধ্যে শুধু আটকিয়ে রাখো, শুধু আটকাও, নিয়ন্ত্রণ করো, যত পারো নিয়ন্ত্রণ করো- তারই একটি দৃষ্টান্ত হলো জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিধি-নিষেধের বেড়াজালের মধ্যে, বেড়াজালের মধ্যে আটকাতে আটকাতে তারা (সরকার) একেবারে বাকশালের যে চূড়ান্ত রূপ-একদল, একদেশ, এক নেতা যেটা করেছিলো ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি। শেখ হাসিনা সেই পিতার একদলীয় নীতির সেই এক দল, এক নেতা, একদেশ ও একটি পত্রিকা- সেই ধারাতে তিনি চলে আসছেন। চূড়ান্ত চেহারায় আত্মপ্রকাশ করছেন তিনি এই গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে।

এই সরকারের নিপীড়নের যেন শেষ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গোরস্তানে। এত কিছু করেও সরকার আশ্বস্ত হতে পারছে না। এত সাংবাদিকদের গুম করা হয়েছে, মিথ্যা মামলায় সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত কারাগারে যেত হচ্ছে, এর মধ্যে আবার নতুন করে গণমাধ্যেমের কণ্ঠরোধ করার জন্য যুক্ত হলো জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা।

তিনি বলেন, এ অবস্থার পরিবর্তনে আমাদের গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ের দিকে ধাবিত হতে হবে। আমাদের সামনে এক পবর্তসঙ্কুল পথ অতিক্রমের যে প্রস্তুতি থাকা দরকার আজকে এই তরুণরা সেই প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাবেন বলে আমি প্রত্যাশা করছি।

ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুর সভাপতিত্বে ও ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সজিবের পরিচালনায় দোয়া মাহফিলে বিএনপির আসাদুল করিম শাহিন, আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, হারুনুর রশীদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, সাদরেজ জামান, যুব দলের কামাল আনোয়ার, ঢাকা কলেজের সাবেক ছাত্র নেতা জাকির হোসেন, গোলাম সারোয়ার শামীম, এসএইচ জাবেদ ও চৌধুরী হাসান জামান মিন্টু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আরো খবর »