বিএনপি রাজনৈতিক লাভ দেখছে না

Feature Image

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানোর উদ্যোগে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি আছে। কিন্তু এর ফলে এখনই কোনো ‘রাজনৈতিক লাভ’ আছে বলে তাঁরা মনে করছেন না। কারণ প্রথমত, খালেদা জিয়া কারামুক্ত থাকলেও আপাতত তিনি রাজনীতি করতে পারছেন না। দ্বিতীয়ত, ইচ্ছা থাকলেও চিকিৎসার জন্য তাঁর বিদেশে যাওয়া সম্ভব নয়। গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় বসেই তাঁকে চিকিৎসা নিতে হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কারামুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত জানার পর এই বিষয়ে মতামত দেওয়া যাবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় খুশি না হওয়ার কারণ নেই। তবে উন্নত চিকিৎসার অনুমতি পাওয়া গেলে ভালো হতো। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে হয়তো চিকিৎসকরা এই বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেবেন।’ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম তো এখন রাজনীতি করতে পারছেন না। রাজনীতি করার প্রশ্নই ওঠে না।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কারামুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে আইনমন্ত্রী যে নিষেধাজ্ঞার কথা বলেছেন সেটি না থাকলে আরো খুশি হতাম।’ খালেদা জিয়ার এই আইনজীবী বলেন, ‘কারামুক্তির আবেদনে বিদেশে যাওয়ার কথা বলতে হবে কেন? ওনার (খালেদা জিয়া) উন্নত চিকিৎসার অনুমতি পাওয়া গেলে সেটি নোয়াখালী বা দেশের যেকোনো স্থানে; এমনকি বিদেশে প্রয়োজন হলেও সেই সুযোগ থাকা উচিত। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে ওনাকে সরকার সেই সুযোগ দেবে বলে আমরা আশা করছি।’ কারামুক্তির বিষয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’! বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন ‘নো কমেন্ট’।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির সিনিয়র আরেকজন নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছয় মাস পরে আবার কারাগারে নেওয়ার তুলনায় হয়তো ভালো খবর। তবে এটুকু বোঝা যায়, খালেদা জিয়ার রাজনীতি শেষ হয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া সরকার খালেদা জিয়াকে হাতের মুঠোয় রাখতে চাইবে, সেটি স্বাভাবিক। সে কারণেই বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না’—বলেন তিনি।

সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের কারামুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গত ২৫ আগস্ট শামীম এস্কান্দার পরিবারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি চেয়ে আবেদন করেন। এতে খালেদার মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানোর অভিমত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। এর আগে সরকারের নির্বাহী আদেশে কারামুক্ত হয়ে ফিরোজায় চিকিৎসা নিচ্ছেন খালেদা জিয়া।

বিএনপির নীতিনির্ধারক বলে পরিচিত বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে গত দুই দিন আলোচনা করে জানা গেছে, দলের চেয়ারপারসনের কারামুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের বিষয়ে দলের বেশির ভাগ নেতাই অন্ধকারে। এসংক্রান্ত খবর জানছেন তাঁরা গণমাধ্যম থেকে। কৌশলগত কারণে পরিবারের এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে বিএনপি নেতারা জড়িত হতে এবং কথা বলতেও আগ্রহী নন বলে জানা যায়। কারণ তাঁরা জানেন, সমঝোতার মধ্য দিয়ে কারামুক্তির কারণে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়বে। আবার সমঝোতা উদ্যোগে বাধা দিলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। অথচ তাঁদের কাছে আবার বিষয়টি আবেগের। ফলে খালেদা জিয়ার কারামুক্তির বিষয়টি তাঁরা পুরোপুরি পরিবারের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। তবে সাজা স্থগিত করার আবেদনে খালেদা জিয়ার সম্মতি আছে বলে তাঁরা মনে করেন।

জানা যায়, বিএনপির বড় ওই অংশটি এখনো চায় খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয় থাকুক। তাঁরা মনে করেন, সমঝোতা বা সরকারের আনুকুল্যে পাওয়া এ ধরনের কারামুক্তিতে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত স্বস্তি ছাড়াও তাঁর পরিবারের লাভ হবে। এর বাইরে তিনি বাইরে থাকলে তাঁকে কেন্দ্র করে দলে সুবিধাভোগী কেউ কেউ খুশি হবেন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি লাভ সরকারের হবে বলে তাঁরা মনে করেন। কারণ খালেদা জিয়া রাজনীতি থেকে দূরে থাকছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেত্রী আগে কারাবন্দি ছিলেন। কিন্তু এখন গৃহবন্দি। তাই এ নিয়ে সন্তুষ্টির কিছু নেই।’

আরো খবর »