ইভটিজিং কি? সেক্স কি? আর ধর্ষণ কাকে বলে?

Feature Image

আমি জানি আপনারা সবাই এই বিষয়ে যথেষ্ট জানেন, তবে আমার মনে হয় আমাদের পাঠ্য বইয়ে সেক্স এডুকেশন নিয়ে কোনো অধ্যায় বা একটি পুরো বিষয়ভিত্তিক সাবজেক্ট থাকা উচিত।
আমাদের দেশের ৭০% লোক আমরা মনে করে থাকি, সেক্স শুধুমাত্র একটি শারীরিক চাহিদা, ইচ্ছে হলো আমি যাকে পেলাম তাকে জোর করে আমার চাহিদা মেটালাম। কিংবা আপনার স্ত্রী, আপনার পার্টনারের কাছে গেলেন, আপনার চাহিদা পূরণ করলেন। এটা আপনার কাছে সেক্স।

ধর্ষণ বলতে আমরা মনে করি, কারো ইচ্ছার বাইরে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা বা চেষ্টা করা।
ইভটিজিং মানে মনে করে থাকি কাউকে সামনে থেকে বিরক্তিকর আচরণ , বা মেবাইলে কল দিয়ে,এসএমএস, ছবি পাঠিয়ে বিরক্ত করা।
এইবার আসি, আসলেই শুধু এই সবেই কি মুূল কারন নাকি আর ও অনেক কারন আছে যেগুলো আমরা জানিনা?

ইভটেজাররা আগে ইভটিজিং করতো সামনা সমনি, সময়ের সাথে সাথে ইভটিজিং এর ধরন পাল্টে গেছে, মাধ্যম বদলেছে। এখন নারী পুরুষ উভয়েই সোসাল মিডিয়া দ্বারা উত্তক্ত হচ্ছে। আপনি একটা মেয়ে বা ছেলের সুন্দর একটা ক্রিয়েটিভ পোষ্টে হাহা রিয়াক্ট দিলেন, তাতে ঔ ব্যাক্তির ভালো কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যায়, নিজের প্রতি কনফিডেন্স হারিয়ে ফেলে, সে আপনার দ্বারা ব্যাথিত হয়, এটাও ইভটিজিং। আপনি কারো ইচ্ছের বাইরে তার ইনবক্সে একটা ম্যাসেজ করে যান এটা ইভটিজিং, বিশেষ করে বিভিন্ন নায়ক- নায়িকাদের একটা ছবির নিচে আপনারা যে সুশীল ভাষায় কমেন্ট করেন, এগুলো যদি তারা পরতেন, গলায় দড়ি দিয়ে মরে যেতেন, তাই তারা কমেন্ট পরেননা। তারাও কিন্তুু আপনার আমার মতো মানুষ। খোলামেলা ছবি আপনি পছন্দ করেননা তাকে ইগনর করুন,কই আপনিতো তা করেননা। কতোগুলো নোংরা কথা বলে নিজের খারাপ বংশের পরিচয় দেন। কারো প্রোফাইলে খোলামেলা ছবি দেখলেই তাকে সস্তা মনে করে ইনবক্সে গিয়ে খারাপ প্রস্তাব করেন, আপনার ধরনা ভুল, খোলামেলা কথা, ছবি আপলোড করা মানেই এই নয় সে মেয়েটি সবার সাথে বিছানায় যায়। ভাবুনতো একবার, নিজের অজান্তে কতো জনকে ইভটিজিং করেছেন আপনি!
এবার আসি সেক্স নিয়ে। সেক্স কি শুধুই শরীরের একটি চাহিদা মাত্র! শুধু কি শরীরের ইচ্ছা পুরুন হলেই আপনার দায়িত্ব শেষ?

নাহ্, সেক্স শরীরের সাথেসাথে একটি মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। যারতার সাথে আপনি সেক্স করতে পারবেননা, যার সাথে আপনি সেক্স করবেন অবশ্যই তার সাথে আপনার মতে মিল থাকতে হবে,রুচির মিল থাকতে হবে, ভালেবাসা থাকতে হবে,ভালেবাসা ছাড়া চুমু খাওয়া যায়না। বুদ্ধিমানরা আগে তার পার্টনারের বন্ধু হয়, তার ফিজিক্যাল নিডটা বুঝার চেষ্টা করে। আপনার পার্টনারের সাথে গল্প করুন, তার পাগলামো স্বাভাবিক নিন। শুধু একটা চার দেয়ালের ঘরে না থেকে বাইরে একসাথে হাত ধরে হাটুন, তাতে আপনার পার্টনারের মনে হবে ঘরেবাইরে সব খানেই আপনি তার জন্য ভরষা। বিশ্বাস করুন, ঘরে ফিরে এই মানুষটা নিজেকে ভেঙেচুরে আপনার কাছে জমা রাখবে।

ওপরের সম্পর্ক গুলো যদি আপনার পার্টনারের সাথে না থাকে, তাহলে আপনি প্রতিনিয়ত মানুষটাকে ধর্ষণ করছেন। এইবার অনেকেই বলবেন, পাগল নাকি। আমার বউয়ের সাথে আমার ঠিকঠাক কথাই হয়না, এতো কাজের চাপে গল্প করার সময় কই। রাতে আইসা মাথা ঠাণ্ডা নাহলে চলে! নিজের বউ আবার ধর্ষন হয় নাকি?
হ্যাঁ হয়, আপনি হয়তো জানেন ও না, এই মানুষটা সেক্স এর থেকে আপনার মাথা কোলে নিয়ে টিপে দিয়ে আপনার মাথা ঠাণ্ডা করার ক্ষমতা রাখেন। আপনি চান বলেই সে আপনাকে বাধা দেয়না, কখনো জানতে চেয়েছেন সেক্স শেষে, সে হ্যাপি কিনা? সেক্স শেষে সবপুরুষ তার পার্টনারকে জড়িয়ে ধরে রাখতে পারেনা, আপনি পারেনতো? পারলে আপনি সাকসেস। সেক্স মানেইতো আপনি আপনার পার্টনারকে কতোটুকু দিতে পারলেন। তা না পারলে অবশ্যই এটা ধর্ষণ। কারন বেশিরভাগ নারীরাই লজ্জায় তাদের এই অতৃপ্ত থাকার ব্যাপারটা লুকিয়ে রাখেন।

আবার ধরুন, প্রথমে আপনার পার্টনারের যথেষ্ট আগ্রহ ছিলো, একটা সময় সে আগ্রহ হারিয়ে ফেলল, এটা আপনি যানার পর ও আপনার ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিচ্ছেন এটাও ধর্ষণ। তাই ধর্ষণ শুধু অপরিচিত কাউকে জোর করলেই হয় ব্যাপারটা ভুল, আপনার স্ত্রী আপনার দ্বারা ধর্ষিত হচ্ছে।
আপনি না বুঝে আপনার কাছের মানুষটাকে প্রতিনিয়ত কষ্ট দিচ্ছেন নাতো?
সেক্স একটা আর্ট,এটাকে শৈল্পিক করে তুলুন। এই শিল্পে সুখ আছে বলেই সৃষ্টিকর্তা এর বৈধতা দিয়েছেন। আপনি আপনার মানুষটাকে বুঝুন। এই বিষয়টাতে জোর করে পৈশাচিক আনন্দ মিললে মিলতে পারে, প্রকৃত সুখ মিলবেনা।
সেক্স শুধু একটা বয়স বা একটা প্রজন্মের জন্য নয়। এটি যেকোনো বয়সের নিড। আপনার পার্টনারের মেন্টাল এজ বুঝুন।
বিষয়টি স্বাভাবিক, স্বাভাবিক ভাবেই নিবেন বলে আশা করি।
লেখা: তাসনিমা ঐশী।

আরো খবর »