আমি যে সমাজে বাস করি সেই সমাজ আমাকে নিরাপত্তা দিতে পারে না

Feature Image

কুমারখালী(কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার বাদী ও তার পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কোর্টে চলমান মামলার রায় ঘোষনার পূর্বেই আসামী মামলার বাদী তার স্ত্রীকে প্রাণনাশের চেষ্টাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে জানা গেছে। গৃহবধূ কলেজে যেতে পারছেনা আতংকে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি ঝিনাইদহের শৈলকূপা থানার কৃত্তিনগর গ্রামের মৃত আব্দুর শুকুরের ছেলে মো. উজ্জ্বল হোসেন। তিনি সাব ইন্সপেক্টর পদে যশোর অভয়নগর থানায় কর্মরত রয়েছেন।

মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে গৃহবধূ সাবরিনা কবির সেতুর নিকট থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে দশ হাজার দুই শত টাকা দেনমোহরে উজ্জ্বলের সাথে তার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে উজ্জ্বলের পরিবর্তন হতে থাকে। বিভিন্ন অজুহাতে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে বললে কয়েকবারে তাকে ১২ লাখ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু তারপরও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে উজ্জ্বল তাকে শারীরিক ও মানুষিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। উজ্জ্বল দৌলতপুর থানায় কর্মরত থাকাকালীন হটাৎ রাত দুইটার সময় বেশকিছু লোক তার বাসার প্রধান ফটকে এসে ডাকাডাকি ও করাঘাত করতে থাকে। সেসময় উজ্জ্বলের রাতে ডিউটি থাকার কারনে সে বাড়িতে ছিলোনা। তিনি উজ্জ্বলকে মোবাইলে ফোনে বিষয়টি জানালে সে আসতে পারবেনা বলে ফোন বন্ধ করে দেয়। এভাবে আরো একদিন ঘটার পর তিনি বুঝতে পারেন তাকে প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্য উজ্জ্বল লোক পাঠাচ্ছে। যেকারণে জীবনের নিরাপত্তা ও তার কন্যা শিশুকে রক্ষার জন্য কুমারখালী বাবার বাড়িতে চলে আসেন। তার বাবার বাড়িতে এসেও উজ্জ্বল নতুন করে আরো ৫ লাখ টাকার জন্য চাপ দেওয়ায় অপারগতা প্রকাশ করলে মারপিটের একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করাকালীন পরিবারের লোকজন এসে তাকে রক্ষা করে। শেষপর্যন্ত উজ্জ্বলের হাত থেকে রক্ষা পেতে ২০২০ সালের শেষের দিকে কুমারখালী থানায় মামলা না নেওয়ায় তারা কুষ্টিয়া কোর্টে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন, যৌতুক ও খোরপোষের মামলা করেন তার স্বামীর বিরুদ্ধে। তিনি আরো জানান সম্প্রতি নারী ও নির্যাতন দমন আইনের মামলায় উজ্জ্বল জামিনে মুক্তি পেয়ে তার বাড়ির উপর ১০/১২ টি মোটরসাইকেল নিয়ে মোহরা দেয় এবং প্রাণনাশের হুমকী দেয়। যেকারণে তারা কুমারখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে অনার্স ভর্তি হয়েছেন কিন্তু ক্লাসে যেতে পারছেননা তার স্বামীর পোষা গুন্ডাদের ভয়ে বাইরে বের হলেই বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে উজ্জ্বলের লোকজন। যেকারণে তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

এ বিষয়ে গৃহবধূ সেতুর বাবা ডাঁশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, তিনি তার জামাই সাব ইন্সপেক্টর উজ্জ্বলকে নগদ ১২ লাখ টাকা দিয়েছেন তার সমস্ত প্রমাণ আছে।পরবর্তীতে ৫ লাখ টাকার জন্য পাষবিক নির্যাতন তার মেয়ের উপর করার কারনেই তারা মামলা করেছেন। তিনি আরো জানান উজ্জ্বলের ঔরসজাত ৪ বছরের একটি মেয়ে শিশু রয়েছে। মেয়ের প্রতিও কোন দায়িত্ব পালন করেনা উজ্জ্বল।

এ বিষয়ে যশোর অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম শামিম হাসান জানান, উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী মামলা করেছি এটা শুনেছি। যেহেতু মামলা বিচারাধীন রয়েছে এ বিষয়ে কোন কথা বলার সুযোগ নেই।

আরো খবর »