ভন্ড পীরের কারিশমায় বসতভিটা হারালেন বিধবা নারী

Feature Image

কুমারখালী(কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোদ্দ বনগ্রাম এলাকায় ভন্ড পীরের কারিশমায় শেষ সম্বল হারিয়েছেন ষাটোর্ধ এক বিধবা নারী। ভন্ড পীর ব্যাংকে বিধবার শেষ সম্বল বসতভিটা দেখিয়ে ঋণ তোলার নামে প্রতারণার মাধ্যমে রেজিষ্ট্রেশন করে নিয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার কোর্টের সমন পেয়ে বিধবা জানতে পেরেছেন বসতভিটার দখল নিতে ভন্ড পীর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

ভন্ড পীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের বাঁশআড়া গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে জুয়েল (৩৬)।

বিধবার মেয়ে ভুক্তভোগী ভেড়ামারা সরকারী মহিলা কলেজের শিক্ষক রাজিয়া সুলতানা রেখা জানান, তার বড় ভাই মিজানুর রহমান রিপন অগ্রনী ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় শিলাইদহ ইউনিয়নের খোদ্দ বনগ্রাম তাদের বাড়ির অদুরে দরবার শরীফ নির্মাণ ও নিজেকে পীর হিসাবে বহিঃপ্রকাশ করেন। সেসময় তার বড় ভাইয়ের ভক্ত বৃন্দের মধ্যে জুয়েলও ছিলো।

২০১৭ সালে তার বড় ভাই হটাৎ করেই স্ট্রোক জনিত কারনে মারা গেলে জুয়েল নিজেকে দরবারের পীর হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তার মা ও বড় ভাইয়ের স্ত্রী সবুজার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। একপর্যায়ে ২০১৮ সালে জুয়েল দরবারটি সুন্দরভাবে পরিচালনা ও ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হবার কথা বলে তাদের বসতভিটার প্রায় ১৫ শতাংশ জমির দলিল ব্যাংকে জমা দিয়ে ঋণ তোলার কথা বলে তার মাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে কৌশলে জমি রেজিষ্ট্রেশন করে নেয়। তিনি ভেড়ামারা কলেজে চাকুরী জনিত কারনে সেখানে অবস্থান করায় বিষয় গুলি ছিলো তার অজানা। পরবর্তীতে জানতে পেরে জুয়েলকে জমি ফিরিয়ে দিতে বললে জুয়েল তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকী দেয়। এবং ২৪ নভেম্বর জানতে পারেন জুয়েল তাদের বসতভিটা দখল নেবার জন্য তার মামা, বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও তার বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করেছে। তিনি আরো জানান, জুয়েল ভয়ংকর প্রকৃতির লোক তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মুলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তিনি ইতিমধ্যে জুয়েলের বিরুদ্ধে ভেড়ামারা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিধবা ফাতেমা খাতুন জানান, জুয়েল ব্যাংকে ঋণ তোলার কথা বলে ডেকে নিয়ে গিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে। জমি বাবদ কোন টাকা তিনি জুয়েলের কাছ থেকে নেননি। জুয়েল তার মেয়েকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকী দিয়েছে।

আরো খবর »