১৪ দিন পর কুয়েটের অধ্যাপকের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন

Feature Image

অধ্যাপকের বাবা ছেলের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলেন খুলনার খানজাহান আলী থানার ওসির হাতে

এনামুল হক ইমন, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড.সেলিম হোসেনের মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের জন্য তার গ্রামের বাড়ী কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাঁশগ্রাম কবরস্থান থেকে মরদেহ তোলা হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আহমেদ সাদাতের তত্বাবধানে ড. সেলিম হোসেনের মরদেহ তোলার কাজ শুরু হয়। মরদেহ তোলার সময় খুলনার খানজাহান আলী থানার ওসি ঘটনাস্থলে থাকা অবস্থায় ড.সেলিমের বাবা তার ছেলের খুনিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ওসির হাতে।

সকাল ৮ টায় মরদেহ তোলার কথা থাকলেও কার্যক্রম শুরু হয় ৯টা থেকে এসময় ঘটনাস্থলে খুলনা মহানগর পুলিশের খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রবির কুমার বিশ্বাস, ওসি তদন্ত ও এই মৃত্যুর তদন্ত কর্মকর্তা শাহরিয়ার হাসান, কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তালুকদার, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি ফারহান লাবিব, ড. সেলিম হোসেনের বাবা মো. শুকুর আলিসহ সহস্রাধিক নারী পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। মরদেহ কবর থেকে তোলার সাথে সাথে সেলিমের বাবা ও দু-বোন কান্নায় ভেঙে পড়েন। ড. সেলিমের বাবা শুকুর আলী বলেন, তিনি আর্থিক অনটনের কারণে ছেলের মৃত্যুর ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও খুলনা গিয়ে মামলা করতে পারেননি। যেকারণে তিনি খুলনার খানজাহান আলী থানার ওসির হাতে তার ছেলের খুনিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এবং তিনি তার ছেলের মৃত্যুর জন্য দোষীদের বিচারের জন্য পিবিআই তদন্ত দাবী করেন। এসময় ড. সেলিমের বোন শিউলী বলেন, তার ভাইকে যেদিন ছাত্রলীগের ছেলেরা ডেকে নিয়ে রুমের মধ্যে নিয়ে যায় তার যাওয়ার দৃশ্য সিসি ফুটেজে থাকলেও বের হবার দৃশ্য নেই। ওই দিন ছাত্রলীগের ছেলেরা তার ভাইকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করেছিলো। কারণ তার ভাইয়ের মুখে ও বুকে আঘাতের চিহ্ন ছিলো।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, কবর থেকে অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনের মরদেহ তোলার পর কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পুনঃরায় এই কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। তিনি আরো বলেন লাশ উত্তোলনের সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইন শৃংখলা রক্ষার্থে আমরা নিয়োজিত আছি।

উল্লেখ্য, গত ৩০ নভেম্বর দুপুরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(কুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনের মৃত্যু হয়। ১লা ডিসেম্বর ময়না তদন্ত ছাড়ায় তার মরদেহ গ্রামের বাড়ী কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাঁশগ্রামে দাফন করা হয়। কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান কুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।এছাড়াও কুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আনিচুর রহমানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুকে অস্বাভাবিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাতে মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে।এর পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা মহানগর পুলিশের খানজাহান আলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহরিয়ার হাসান মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়না তদন্তের জন্য খুলনা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে কবর থেকে মরদেহ তুলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুষ্টিয়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে বলা হয়।

এই ঘটনাকে হত্যাকান্ড বলে অভিযোগ করে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের দাবি জানিয়েছেন সেলিমের স্বজন এবং এলাকাবাসী।

আরো খবর »