ব্ল্যাকক্যাপদের ধসিয়ে দুর্দান্ত ইতিহাস রচনা

Feature Image

বেদনার ২১ বছর পেরিয়ে অবশেষে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ, যা টেস্ট ইতিহাসেরই অবিশ্বাস্য অঘটনের একটি। ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশ দল নিউজিল্যান্ডে এসেছে এবং হতাশ হয়ে ফিরেছে। ৩২ বারে এই ছবি বদলায়নি। তবে আজ (গতকাল) নয়।

মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে আট উইকেটের এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অবিস্মরণীয় এক স্মারক হয়ে থাকবে, যে জয় তাদের প্রাপ্য। পাঁচ দিনই কী দাপটে খেলেছে বাংলাদেশ! শেষ দিনে আরো দুর্ধর্ষ। নিউজিল্যান্ডের শেষ পাঁচ উইকেট মাত্র ২২ রানে গুটিয়ে দিয়ে লাঞ্চের আগেই জয় তুলে নিয়েছে। এটা দেশের বাইরে বাংলাদেশের ষষ্ঠ জয়। আগের পাঁচটির দুটি করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়েতে, আরেকটি শ্রীলঙ্কায়। অবশ্যই মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের জয় আগেরগুলোর চেয়ে আলাদা। এই জয় যে টেস্ট বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে, যারা নিজেদের মাটিতে আগের ১৭ টেস্টই জিতেছে, গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত, ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মতো দলকে।

বুধবারের আগে সর্বশেষ ১৪ টেস্টের একটিই জিতেছে বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার তিক্ততা নিয়ে পা রেখেছিল নিউজিল্যান্ডের মাটিতে। তাই এই টেস্ট শুরুর আগে বাজির দরেও যোজন দূরত্বে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ, ১:২১ ডলার।

কিন্তু মাঠে নামার পর এই দলটির তরুণদের ব্যাটগুলো আস্থার প্রতীক হয়ে উঠল। একাদশের একজন মাত্র ক্রিকেটারের বয়স তিরিশের বেশি, সাতজনের বয়স ২৬ কিংবা এর নিচে। সম্ভবত ঠিক কথাই বলেছিলেন দলটির কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, ‘এই তরুণদের হারের ভয় নেই, যে ভয় টানা হারে জেঁকে বসেছে অভিজ্ঞদের মনে।’

এই অকুতোভয় তরুণ ব্যাটাররা নিউজিল্যান্ড বোলারদের ১৭৬.২ ওভার বোলিং করিয়েছে। মনে হচ্ছিল বে ওভাল (মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের মাঠ) বুঝি মসৃণ রাজপথ, ব্যাটিং স্বর্গ। কিন্তু একই উইকেটে বাংলাদেশি বোলারদের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড ব্যাটারদের বোকা মনে হয়েছে। স্বাগতিকদের ধ্বংস করে বুঝিয়েছে উইকেট নয়, দোষটা ব্যাটারদের।

চতুর্থ দিনে ২ উইকেটে ১৩৬ রানের স্বস্তিদায়ক অবস্থা থেকেও নিউজিল্যান্ডের স্কোর আচমকা ১৪৭/৫ হয়ে যায়। শেষ দিনে কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি স্বাগতিকরা। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই আউট রস টেলর, চতুর্থ ওভারে কাইল জেমিসন, পরের ওভারে রাচিন রবীন্দ্র, সপ্তম আর একাদশ ওভারে টিম সাউদি ও ট্রেন্ট বোল্টের সঙ্গে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ৮১.৫ গড় নিয়ে এই ম্যাচে বোলিং করতে নামা এবাদত হোসেন ৪৬ রানে পাঁচ উইকেট, প্রতিবার সাফল্য স্যালুটে উদযাপন করেছেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এই সদস্য। তাঁর এই সাফল্য বাংলাদেশি কোনো পেসারের দ্বিতীয় সেরা। এরপর ইতিহাস গড়ার জন্য ৪০ রান অনায়াসে তুলে উৎসবে মেতে ওঠে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ঘরের মাঠের অজেয় দুর্গ চুরমার হতে দেখে শোকস্তব্ধ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড।

কোনো সন্দেহ নেই, সুইং বোলিং নিয়ে এত দিনের গর্ব ধুলোয় লুটোপুটি খেতে দেখে সাউদি-বোল্টদের অহমে চোট লেগে থাকবে। দ্বিতীয় টেস্টে এর প্রতিশোধ নিতে চাইবে তারা। ক্রাইস্টচার্চের সবুজ উইকেটে হয়তো তারা সফলও হবে।

কিন্তু তাতে বাংলাদেশের এই জয়ের মহিমা এতটুকু মলিন হবে না। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের প্রতিটি মিনিট সফরকারীদের। এবাদতের উদযাপনের ভঙ্গিতে বোঝা যায় এই জয়ের উচ্চতা। বাংলাদেশকে স্যালুট।

আরো খবর »